দেশজুড়ে

শৈলদাহের ভাঙনে বিপর্যস্ত ১০ গ্রামের ৩০ হাজার মানুষ

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শৈলদাহ নদীর ভাঙনে লেবুতলা-ডুমরিয়া সড়কের বিভিন্ন অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। নদীর তিনটি পয়েন্টে প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে ১০ গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।

ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বালুর বস্তা ফেলে অস্থায়ী প্রতিরোধের কাজ করছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, অস্থায়ীভাবে বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন বন্ধ করা সম্ভব নয়। তারা দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট ও পিরোজপুর জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত শৈলদাহ নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় আট কিলোমিটার এবং গড় প্রস্থ ৩৪০ মিটার। নদীটির গতিপথ আঁকাবাঁকা ও ভাঙনপ্রবণ। চলতি বর্ষা মৌসুমে পানির তীব্র স্রোতে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমরিয়া ইউনিয়নের সড়াবাড়ী, চিথলিয়া ও ছোট ডুমরিয়া এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।

ভাঙনের কারণে স্থানীয়দের ৯ থেকে ১০ কিলোমিটার ঘুরে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। একই সঙ্গে হুমকির মুখে পড়েছে প্রায় ৫০টি বসতবাড়ি, ফসলি জমি, ইউনিয়ন পানি সরবরাহের পানির ট্যাংক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা।

স্থানীয়রা জানান, সড়কের কোথাও ভেঙে গেছে, আবার কোথাও দেবে গেছে। ফলে ভ্যানসহ ছোট যানবাহন চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় যাত্রীদের নামিয়ে দিতে হচ্ছে। এতে যানবাহনের টায়ার, চেইন, বিয়ারিং ও মোটর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের মতো জরুরি যানবাহন চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় কলেজছাত্র হৃদয় শেখ বলেন, প্রতিদিন তিন থেকে চার হাজার মানুষ সড়কটি ব্যবহার করেন। দ্রুত স্থায়ী ভাঙন প্রতিরোধ করা না হলে সড়কটি পুরোপুরি নদীগর্ভে চলে যেতে পারে। এতে যাতায়াতের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনেও বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হবে।

চিথলিয়া গ্রামের বাসিন্দা বাসন্তী মিস্ত্রি বলেন, নদীভাঙনে তাদের বসতঘর আগেই বিলীন হয়েছে। এখন জমিও ভাঙনের মুখে। বালুর বস্তা ফেলা হলেও ভাঙন থামছে না। সম্পত্তি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. জাকারিয়া ফেরদৌস বলেন, ডুমরিয়া ইউনিয়নের তিনটি পয়েন্টে প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন রয়েছে। সেখানে বালুর বস্তা ফেলে অস্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে।

তিনি আরও বলেন, সাউথ ইস্ট প্রকল্পের আওতায় শৈলদাহ নদীর ভাঙন প্রতিরোধে একটি স্থায়ী প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নদীভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

সন্ধানী বার্তা/এমএসআইপি 


সম্পর্কিত খবর