প্রধান প্রতিবেদন

‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি: জামায়াত আমির

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক, সন্ধানী বার্তা:

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আসন্ন নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়; এটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের নির্বাচন। এবার ভোট হবে দুটি—একটি ‘হ্যাঁ’, অন্যটি প্রার্থীদের। ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি (মুক্তি), আর ‘না’ মানে গোলামি।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর ঐতিহাসিক সার্কিট হাউজ মাঠে আয়োজিত বিভাগীয় নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মানুষ আর কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা গোষ্ঠীর রাজনীতি দেখতে চায় না। জনগণ এখন সত্যিকারের জনগণের সরকার চায়।

বিগত ৭৭ বছরের রাজনীতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, তরুণ-তরুণী এমনকি শিশু ও নারীরাও পুরোনো রাজনীতির পরিবর্তন চায়। এবার বাংলাদেশ পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি বিভাগীয় শহরকে আধুনিক স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। নারী-পুরুষের জন্য সমান কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে এবং যুবসমাজকে কাজের সুযোগ দিয়ে স্বাবলম্বী করে তোলা হবে।

বিগত সরকারের কঠোর সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, দেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে, যা দেশের বার্ষিক বাজেটের চারগুণেরও বেশি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই টাকা যারা পাচার করেছে, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনা হবে এবং লুটের টাকা উদ্ধার করা হবে।

শিক্ষা ও গবেষণার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণার ক্ষেত্রে অনন্য হলেও প্রয়োজনীয় গুরুত্ব ও বাজেট দেওয়া হয়নি। ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হলে এই বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বমানের বিদ্যাপীঠে পরিণত হবে।

যুবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনে যুবসমাজ বেকার ভাতার জন্য জীবন দেয়নি; তারা মর্যাদাপূর্ণ কাজ ও সম্মানজনক ভবিষ্যৎ চেয়েছে। জামায়াতে ইসলামী যুবকদের হাতে অপমানজনক বেকার ভাতা নয়, বরং দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলে দেবে।

এর আগে দুপুরে হেলিকপ্টারযোগে ময়মনসিংহে পৌঁছে মঞ্চে উঠে তিনি উপস্থিত জনসমুদ্রের উদ্দেশে শুভেচ্ছা জানান। ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমীর ও সদর আসনের ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা কামরুল আহসান এমরুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং ১১-দলীয় জোটের প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

সন্ধানী বার্তা/এমএএইচ/এএন


সম্পর্কিত খবর