বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় দীর্ঘদিনের অংশীদার জাপানের সঙ্গে সহযোগিতার পরিধি আরও বাড়াতে চায় সরকার। পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, টেকসই সমাজ গঠন ও স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের অভিজ্ঞতা ও সহায়তাকে কাজে লাগানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণসহ পারস্পরিক স্বার্থের নতুন ক্ষেত্র খোঁজার কথাও উঠে এসেছে আলোচনায়।
- পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও টেকসই সমাজ গঠনে সহায়তা বাড়ানোর প্রত্যাশা
- ‘জাপান দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার’—এলজিআরডি মন্ত্রী
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে নিজ কার্যালয়ে জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ প্রত্যাশার কথা জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
‘জাপান গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার’
বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়নে জাপানের দীর্ঘদিনের অবদানের কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার জন্য জাপানের সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় জাপান দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।’
তাঁর প্রত্যাশা, পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাবে। স্বাধীনতার পর বিভিন্ন অবকাঠামো ও আর্থসামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জাপানের সহায়তা বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পানি-বর্জ্যে নতুন সহযোগিতার সুযোগ
বৈঠকে জাপানের সহায়তায় বাস্তবায়িত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি পানি সরবরাহ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। দ্রুত নগরায়ণের বাস্তবতায় নিরাপদ পানি এবং কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে কী ধরনের সহযোগিতা নেওয়া যায়, তা নিয়ে মতবিনিময় করেন দুই পক্ষ। টেকসই সমাজ বিনির্মাণেও যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন অবকাঠামো শক্তিশালী করা এবং নাগরিক সেবার মান বাড়ানোর ক্ষেত্রে জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সম্ভাবনাও গুরুত্ব পায়।
প্রকল্পের অগ্রগতি, সামনে নতুন ক্ষেত্র
বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি রাষ্ট্রদূতের কাছে তুলে ধরেন মন্ত্রী। চলমান প্রকল্পের পাশাপাশি ভবিষ্যতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশের উন্নয়ন চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জাপানের কারিগরি ও উন্নয়ন সহযোগিতাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। দুই দেশের অভিজ্ঞতা বিনিময় ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়ন আরও গতিশীল করার সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে।
উন্নয়নের সঙ্গে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান
বৈঠকে উন্নয়ন সহযোগিতার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় হয়। দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও কার্যকর অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষের আগ্রহের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও নাগরিক সেবার মতো ক্ষেত্রগুলোতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

ছিলেন দুই দেশের কর্মকর্তারা
বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোঃ শহীদুল হাসান, বাংলাদেশে জাপান দূতাবাসের প্রথম সচিব কোমিনে কেন ও দ্বিতীয় সচিব সোমা হানা উপস্থিত ছিলেন।এ ছাড়া পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক শিবির বিচিত্র বড়ুয়াসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত অংশীদারত্বকে নতুন প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করে সামনে এগিয়ে নেওয়াই এখন দুই দেশের উন্নয়ন সহযোগিতার পরবর্তী লক্ষ্য হিসেবে আলোচনায় এসেছে।
এমএএএমকে