জাতীয়

আস্থার পুলিশিংয়ে জোর আইজিপির

পুলিশি সেবায় বদল আনতে হলে আগে বদলাতে হবে জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি দরকার মানবিকতা, আস্থা ও অংশীদারত্ব। এই তিন ভিত্তিতে কমিউনিটি ও বিট পুলিশিংকে আরও কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, বিপিএম।

  • ‘পেশাদারিত্বের সঙ্গে মানবিকতা’—কিশোর গ্যাং ও মাদক দমনে জনগণকে অংশীদার করার আহ্বান
  • কমিউনিটি পুলিশিংয়ে নতুন কাঠামোর ভাবনা

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশের বহুমুখী হলে দুই দিনব্যাপী ‘কমিউনিটি পুলিশিং নীতিমালা প্রণয়ন’ কর্মশালার উদ্বোধনে এ আহ্বান জানান তিনি। আইজিপির বার্তা স্পষ্ট—অপরাধ ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অপরাধের আগেই তা ঠেকাতে হবে। আর এ কাজে পুলিশের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে জনগণ।

‘মানবিকতা ও সেবার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে’
কর্মশালাকে সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ‘পেশাদারত্বের সঙ্গে মানবিকতা ও সেবার মনোভাব নিয়ে জনগণকে পুলিশি সেবা দিতে হবে।’ তাঁর মতে, জনমুখী পুলিশিংয়ের ভিত্তি হলো জনগণের আস্থা। নিয়মিত যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সেই আস্থাকে কার্যকর অংশীদারত্বে রূপ দিতে হবে। কমিউনিটি ও বিট পুলিশিং এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল কমিউনিটি গড়ার লক্ষ্যে জনগণের সঙ্গে আমাদের অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করে পারস্পরিক আস্থা অর্জনের মাধ্যমে অপরাধ প্রতিরোধ করতে হবে।’

কিশোর গ্যাং, মাদকেও নজর
আইজিপির বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে কিশোর গ্যাং ও মাদক। স্থানীয় পর্যায়ে জনগণকে সম্পৃক্ত করে কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ এবং মাদকবিরোধী অভিযান আরও কার্যকর করার ওপর জোর দেন তিনি। অপরাধ প্রতিরোধে শুধু পুলিশের তৎপরতা নয়, স্থানীয় মানুষের তথ্য, সহযোগিতা ও সচেতনতাকেও কাজে লাগানোর কথা উঠে আসে কর্মশালায়। এতে বিট পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে মানুষের সরাসরি যোগাযোগ আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে।

কাবাডিতেও কমিউনিটির কাছে পুলিশ
জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে খেলাধুলাকেও কাজে লাগানোর কথা তুলে ধরেন আইজিপি। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড় খুঁজে জাতীয় কাবাডি দল গঠনের লক্ষ্যে আয়োজিত ‘১ম কমিউনিটি পুলিশিং কাবাডি টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর কথা উল্লেখ করেন তিনি। আইজিপি বলেন, কাবাডি বাংলাদেশের জাতীয় খেলা ও গৌরবের অংশ। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে পুলিশের পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

পুলিশিংয়ে আসছে নতুন কাঠামো
অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশে কমিউনিটি ও বিট পুলিশিং পুনর্গঠন: একটি জনমুখী, প্রতিরোধমূলক ও গোয়েন্দা-তথ্যনির্ভর পুলিশিং কাঠামোর পথে’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশের রেক্টর ও অতিরিক্ত আইজি কাজী মোঃ ফজলুল করিম, বিপিএম-সেবা।

তিনি বিদ্যমান অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কমিউনিটি ও বিট পুলিশিংকে আরও প্রতিরোধমূলক, জবাবদিহিমূলক, তথ্যনির্ভর ও জনসম্পৃক্ত করার ওপর জোর দেন। মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোঃ সায়েদুর রহমান এবং পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশের ভাইস-রেক্টর ড. মোঃ আব্দুস সোবহান। তাঁরা মাঠপর্যায়ে এ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

মাঠের অভিজ্ঞতা থেকেই নীতিমালা
দুই দিনের কর্মশালায় বাংলাদেশ পুলিশের কমিউনিটি অ্যাফেয়ার্স অফিসার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন। মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, মতামত ও সুপারিশ একত্র করে তৈরি হবে বাস্তবমুখী নীতিমালা। লক্ষ্য শুধু একটি নীতিমালা তৈরি নয়। কমিউনিটি ও বিট পুলিশিংকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় শক্তিশালী করে অপরাধ প্রতিরোধে জনগণকে পুলিশের সক্রিয় অংশীদারে পরিণত করা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশের রেক্টর ও অতিরিক্ত আইজি কাজী মোঃ ফজলুল করিম, বিপিএম-সেবা। তাঁর নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই কর্মশালায় মূলত মাঠের বাস্তবতা, পুলিশের অভিজ্ঞতা ও জনসম্পৃক্ততার সমন্বয়ে নতুন কাঠামোর পথ খোঁজা হচ্ছে।

এমএএএমকে


সম্পর্কিত খবর