আন্তর্জাতিক

২০২৭ সালেও জ্বালানি বাজারে কাটছে না অস্থিরতা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও দামে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা আগামী বছরেও অব্যাহত থাকতে পারে। ২০২৭ সালেও যুদ্ধ শুরুর আগের পরিস্থিতিতে জ্বালানি বাজার ফিরে যাওয়ার বিশ্বাসযোগ্য কোনো পথ দেখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল। সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক জ্বালানি সপ্তাহের সম্মেলনে তিনি এ আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।

ফাতিহ বিরল জানান, যুদ্ধ শুরুর আগে চলতি বছর বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি থাকার পূর্বাভাস ছিল। অর্থাৎ, বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের কারণে সেই পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। এর প্রভাবে অপরিশোধিত তেলের পাশাপাশি পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যের দামও বেড়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি পরিবহন, শিল্প উৎপাদন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহের জন্য জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে জ্বালানির সরবরাহে বিঘ্ন এবং দামের অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আইইএ প্রধানের বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রভাব শুধু বর্তমান সময়ের জ্বালানি বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকার আশঙ্কা নেই। এর রেশ আগামী বছরেও থাকতে পারে। ফলে ২০২৭ সালে জ্বালানি বাজার যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে যাবে—এমন প্রত্যাশার পক্ষে এখনো বিশ্বাসযোগ্য পথ দেখা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো এবং সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে যেসব দেশ আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর বেশি নির্ভরশীল, তাদের জন্য সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে গেলে এসব দেশের আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতেও চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ফাতিহ বিরল সরকার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জ্বালানি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে বর্তমান সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হলে দেশগুলোকে বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা, জ্বালানির সাশ্রয়ী ব্যবহার এবং বাজারের ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হতে পারে। তবে আগামী বছর বিশ্ববাজারে সরবরাহ ও দামের পরিস্থিতি ঠিক কতটা বদলাবে, তা সংঘাতের গতিপ্রকৃতি এবং জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থার পুনরুদ্ধারের ওপর নির্ভর করবে। সব মিলিয়ে, আইইএর সতর্কবার্তা বলছে, যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা দ্রুত শেষ হওয়ার নিশ্চয়তা নেই। তাই ২০২৭ সালকে সামনে রেখে সরকার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

সন্ধানী বার্তা/এসকে/এমএসআইপি


সম্পর্কিত খবর