সংবিধানে কোনো মৌলিক সংশোধন আনা হলে তা গণভোটের মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছে সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের ক্যাবিনেট কক্ষে গণমাধ্যমের সম্পাদক ও সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়।
দুপুর আড়াইটায় শুরু হওয়া বৈঠকটি প্রায় দুই ঘণ্টা স্থায়ী হয়। সংবিধান সংশোধন বিষয়ে গণমাধ্যমের মতামত জানতে বিশেষ কমিটির এটি ছিল তৃতীয় দফার বৈঠক। এতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।
বৈঠকে সংবিধান সংশোধন নিয়ে সরকারের বর্তমান অবস্থান ও বক্তব্য জানতে চান গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। পরে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দৈনিক দেশ রূপান্তরের সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি।
তিনি জানান, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে কিছু মৌলিক পরিবর্তনের জন্য গণভোটের প্রয়োজন হয়। এ ধরনের মৌলিক পরিবর্তন আনা হলে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে বলে বিশেষ কমিটির পক্ষ থেকে তাদের জানানো হয়েছে।
যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা
মুস্তাফিজ শফির ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকে সংবিধান সংশোধনের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা, সরকারি নিয়োগে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং বাতিল হওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের লক্ষ্যে ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনা করে জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করা হয়। সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। সনদে ২৬টি রাজনৈতিক দল ও জোট স্বাক্ষর করে।
জুলাই জাতীয় সনদের ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে ৪৮টি সংবিধান-সম্পর্কিত। এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তী সরকার ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করেছিল।
প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ার পর ওই আদেশ অনুযায়ী ত্রয়োদশ সংসদের সদস্যদের নিয়ে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন এবং ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংস্কারকাজ শেষ করার কথা ছিল।
তবে বিএনপি সরকার গঠনের পর ওই সংস্কার পরিষদ গঠন করা হয়নি এবং দলটির সদস্যরা সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।
গত ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের ‘সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’ গঠন করা হয়। কমিটিতে বিরোধী দল থেকে পাঁচজন প্রতিনিধি চাওয়া হলেও তারা নাম দেয়নি।
সন্ধানী বার্তা/এএইচ/এমএসআইপি