যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস থেকে চালু হয়েছে ‘ট্রাম্প টিভি: দ্য এসেনশিয়ালস স্টেশন’। ২১ সেপ্টেম্বর নতুন এই অনলাইন ভিডিও চ্যানেলের সম্প্রচার শুরু হয়। এতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য, প্রশাসনের ঘোষণা, বিভিন্ন কর্মসূচির ভিডিও এবং আগের অনুষ্ঠানের নির্বাচিত ফুটেজ প্রচার করা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসে CNN, পলিটিকো ও MS NOW-এর সাংবাদিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার পরপরই চ্যানেলটি চালু হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
কী দেখানো হচ্ছে ট্রাম্প টিভিতে
চ্যানেলটিতে প্রশাসনের নিজস্ব ভিডিও ২৪ ঘণ্টা প্রচারের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রেসিডেন্টের ভাষণ ও বক্তব্য, প্রশাসনিক ঘোষণা এবং গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডের ফুটেজ।
এ ছাড়া ট্রাম্পের আগের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও প্রশাসনের নির্বাচিত কর্মকাণ্ডের ভিডিওও প্রচার করা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের নিজস্ব ভিডিও লাইব্রেরিতেও ২১ সেপ্টেম্বর ‘Trump TV is Here’ এবং ‘TRUMP TV: The Essentials Station’ নামে ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রবেশ বন্ধ
১৮ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প CNN, পলিটিকো ও MS NOW-এর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেন। পরদিন সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়।
ট্রাম্পের অভিযোগ, এসব সংবাদমাধ্যম তাঁর প্রশাসন সম্পর্কে নেতিবাচক ও ভুয়া প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সংবাদমাধ্যমগুলো এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এবং তাদের প্রবেশাধিকার বাতিলকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
আদালতে গড়াল বিরোধ
প্রবেশাধিকার ফিরে পেতে ২১ সেপ্টেম্বর CNN, পলিটিকো ও MS NOW যৌথভাবে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করে। তাদের দাবি, সংবাদ প্রকাশের কারণে সরকারি কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বাতিল করতে পারেন না এবং এই সিদ্ধান্ত মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর সুরক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
মামলাটি এমন সময়ে হয়েছে, যখন হোয়াইট হাউসের প্রেস পুল নিয়েও বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। CNN-কে পুল থেকে বাদ দেওয়ার পর ABC, CBS, NBC ও Fox News-ও প্রেসিডেন্টের পুল কাভারেজ স্থগিত করে।
সরকারি চ্যানেল বনাম স্বাধীন সংবাদমাধ্যম
ট্রাম্প টিভি সরাসরি হোয়াইট হাউসের বক্তব্য দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। তবে সরকারি এই প্ল্যাটফর্মে কী ভিডিও প্রচার হবে, তা প্রশাসনই নির্ধারণ করছে।
অন্যদিকে স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের কাজের মধ্যে রয়েছে সরকারের বক্তব্যের পাশাপাশি প্রশ্ন করা, বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য নেওয়া, তথ্য যাচাই এবং প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের স্বাধীন প্রতিবেদন প্রকাশ করা।
এ কারণে ট্রাম্প টিভি চালুর ঘটনা শুধু নতুন একটি অনলাইন চ্যানেল চালুর বিষয় নয়; এটি হোয়াইট হাউস ও মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর চলমান বিরোধের মধ্যেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মামলাটির পরবর্তী শুনানি ও আদালতের সিদ্ধান্ত এখন এই বিরোধের গুরুত্বপূর্ণ পরবর্তী ধাপ।
সন্ধানী বার্তা/এসএ