ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রয়োজনে দেশটির ‘বাকি অংশও ধ্বংস’ করে দিতে হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এ বিষয়ে খুব শিগগিরই বিস্তারিত জানা যাবে বলেও জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এখন যুক্তরাষ্ট্রকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, ইরানের বিরুদ্ধে আরও সামনে এগিয়ে যাবে কি না এবং চলমান সংঘাতের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করবে কি না।
ট্রাম্পের ভাষায়, ‘এখন আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে আমরা কি আরও সামনে এগিয়ে যাব এবং বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করব? চূড়ান্ত নিষ্পত্তি বলতে আমি বোঝাচ্ছি, এমন পরিস্থিতি যেন আর কখনো তৈরি না হয়।’
ইরানের আরও ক্ষয়ক্ষতি ঘটানোর বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘যদি সম্ভব হয়, তবে আমি দেশটির বাকি অংশ ধ্বংস করতে চাই না। তবে হয়তো আমাকে তা করতেও হতে পারে। আর আপনারা তা খুব শিগগির জানতে পারবেন।’
ইরান পুনর্গঠনে লাগবে ২৫ বছর, দাবি ট্রাম্পের
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এরপর থেকে সংঘাতের কারণে দেশটির বিভিন্ন স্থাপনা ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে চূড়ান্ত কোনো সমঝোতা হয়নি।
ট্রাম্পের দাবি, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ইরানকে পুনর্গঠন করতে অন্তত ২৫ বছর সময় লাগতে পারে। তাঁর এ মন্তব্য দেশটির ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
ইরানের প্রস্তাব নিয়ে কী বললেন ট্রাম্প?
এদিকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তেহরান একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে কি না, ওভাল অফিসে সাংবাদিকেরা ট্রাম্পের কাছে জানতে চান।
জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমাদের অনুমোদন ছাড়া তারা কিছুই করতে পারবে না।’
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। তবে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
সন্ধানী বার্তা/এসএ/জেএন