জুমার খুতবা চলাকালে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নাম উচ্চারিত হলে অনেক মুসল্লির মনে প্রশ্ন জাগে, এ সময় দরুদ শরিফ পড়া যাবে কি না। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, খুতবার সময় নবীজির (সা.) নাম শুনলে মনে মনে দরুদ পড়া যাবে। তবে মুখে উচ্চৈস্বরে দরুদ পাঠ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
জুমার খুতবা জুমার নামাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ সময় মুসল্লিদের মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা এবং নীরব থাকা ওয়াজিব। তাই খুতবা চলাকালে কথাবার্তা, জিকিরসহ এমন কোনো কাজ করা উচিত নয়, যা খুতবা শোনার মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটায়।
খুতবার সময় কথা বলতেও নিষেধ করেছেন নবীজি
খুতবার সময় নীরব থাকার বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিন খুতবার সময় যদি তুমি তোমার সঙ্গীকে বলো, চুপ কর, তাহলেও তুমি অনর্থক কথা বললে।’ (সহিহ বুখারি)
এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, খুতবা চলাকালে অন্যকে চুপ থাকতে বলার মতো কথাও বলা অনুচিত। কারণ, এতে খুতবা শোনার ধারাবাহিকতা ও মনোযোগ ব্যাহত হতে পারে।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, চারটি স্থানে চুপ থাকা ওয়াজিব—জুমা, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা এবং ইসতিসকার খুতবার সময়। (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক: ৫৬৪২)
নবীজির নাম শুনলে কী করবেন?
খুতবায় মহানবী (সা.)-এর নাম উচ্চারিত হলে মুসল্লি মনে মনে দরুদ শরিফ পাঠ করতে পারেন। তবে মুখে উচ্চারণ করে দরুদ পড়া থেকে বিরত থাকতে হবে। একইভাবে খুতবা চলাকালে অন্য কোনো জিকির বা কথাবার্তাও বলা উচিত নয়।
অর্থাৎ, এ সময় নীরব থেকে খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনাই মূল করণীয়। মনে মনে দরুদ পাঠের মাধ্যমে নবীজির (সা.) প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করা যেতে পারে।
জুমার দিন বেশি বেশি দরুদ পড়ার ফজিলত
জুমার দিন মহানবী (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠের বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। আওস ইবনে আওস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম দিন হলো জুমার দিন। এ দিন আদমকে (আ.) সৃষ্টি করা হয়েছিল, এ দিনই তাঁর ওফাত হয়। এ দিনই দ্বিতীয়বার শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে এবং এ দিনই কেয়ামত অনুষ্ঠিত হবে। তাই তোমরা আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ কর। তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হবে।’ (সুনানে নাসাঈ: ১৩৭৭)
সাহাবিরা জানতে চেয়েছিলেন, রাসুল (সা.)-এর ইন্তেকালের পর তাঁর কাছে কীভাবে দরুদ পেশ করা হবে। জবাবে তিনি জানান, আল্লাহ তাআলা জমিনের জন্য নবীদের শরীর গ্রাস করা হারাম করে দিয়েছেন।
তাই জুমার দিন অন্যান্য সময়ে বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা উচিত। তবে খুতবা চলাকালে নীরবতা বজায় রেখে মনে মনে দরুদ পাঠ করাই করণীয়।
সন্ধানী বার্তা/এএএন/জেএন