দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বিকাশ, অর্থনীতিতে এর অবদান এবং শ্রমিকদের সাম্প্রতিক আন্দোলন—এই তিন প্রসঙ্গকে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘গার্মেন্টস শিল্পের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এ কারণে এ শিল্পের প্রতি বিএনপির দরদ সবচেয়ে বেশি।’ তাঁর মতে, দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এ শিল্পের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে বিএনপি সবসময় আন্তরিক।
- শ্রমিকদের দাবির প্রতি সরকারের আন্তরিকতার কথা জানিয়ে দ্রুত কমিটি গঠনের তথ্য দিলেন ইয়াসের খান চৌধুরী
- জুলাইয়ের ফটোসাংবাদিকদের স্বীকৃতি দেওয়ার আশ্বাস
দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ও সাম্প্রতিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে সরকারের অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন তিনি। জানিয়েছেন, শ্রমিকদের দাবির প্রতি সরকার আন্তরিক এবং এ নিয়ে দ্রুততম সময়ে কমিটি গঠন করে কাজ শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজেএ) নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার শুরুতে পোশাক শিল্পের সাম্প্রতিক আন্দোলন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে তৈরি পোশাক শিল্পের সঙ্গে বিএনপির রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক সম্পৃক্ততার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে শিল্পটির অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে সরকারের আন্তরিকতার কথাও উঠে এসেছে।

শ্রমিকদের দাবি নিয়ে দ্রুত কাজ শুরু
পোশাক শ্রমিকদের সাম্প্রতিক আন্দোলন ও দাবির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার পোশাক শ্রমিকদের দাবির প্রতি আন্তরিক। তাই দ্রুততম সময়ে কমিটি গঠন করে কাজ শুরু করে দিয়েছে। তৈরি পোশাক শিল্পের উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি কার্যক্রমের সঙ্গে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত। ফলে শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া ও শিল্পের স্থিতিশীলতা—উভয় বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়েছে।
জুলাইয়ের ফটোসাংবাদিকদের স্বীকৃতি দেওয়ার আশ্বাস
এদিকে, মতবিনিময় সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে ফটোসাংবাদিকদের সাহসী ভূমিকার যথাযথ স্বীকৃতি ও মর্যাদা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, যারা গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন, বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন। এটি শুধু আর্থিক সহায়তার বিষয় নয়, বরং তাদের অবদানের স্বীকৃতি, সম্মান ও মর্যাদার বিষয়।
বিপিজেএর স্থায়ী কার্যালয়ের বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস
মতবিনিময় সভায় বিপিজেএর নেতারা সংগঠনটির দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন। তাঁদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন প্রতিমন্ত্রী এবং সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। সংগঠনটির স্থায়ী কার্যালয়ের সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংগঠনটির জন্য একটি স্থায়ী ঠিকানা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। বর্তমানে যে ভবন বা জায়গা নিয়ে জটিলতা রয়েছে, সেটির প্রকৃত অবস্থা ও আইনি বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন তিনি।
সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়ে তাড়াহুড়ো নয়
সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন বা সংশোধনের অগ্রগতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ আইন নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে পরামর্শ ও আলোচনা চলছে। সবার মতামত গ্রহণের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকার তাড়াহুড়ো করতে চায় না। তিনি বলেন, আইনটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। আমরা চাই, আইনটি যেন প্রকৃত অর্থেই সবাইকে সুরক্ষা দিতে পারে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষ করেই চূড়ান্ত পর্যায়ে যেতে চাই।
ফটোসাংবাদিকদের অবদান ও পেশাগত সংকটের কথা তুলে ধরলেন নেতারা
সভায় বিপিজেএর সভাপতি এ কে এম মহসিন ফটোসাংবাদিকদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবিদাওয়া তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে ফটোসাংবাদিকদের একটি বড় অংশ নানা ধরনের প্রতিকূলতা, নির্যাতন ও পেশাগত বাধার মধ্যেও দায়িত্ব পালন করেছেন। গণতান্ত্রিক আন্দোলন থেকে শুরু করে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংবাদচিত্র ধারণ করেছেন।
তিনি বলেন, ফটোসাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয়, দেশের ইতিহাস ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ দলিল সংরক্ষণের মাধ্যম। আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সাক্ষ্য বহন করে তাদের তোলা ছবি। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ফটোসাংবাদিকরা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কাজ করে দেশ-বিদেশে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
বিপিজেএর স্থায়ী কার্যালয় নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সংগঠনটির স্থায়ী কার্যালয় থাকলে ফটোসাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, সভা-সেমিনার ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হবে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদার বলেন, ফটোসাংবাদিকরা গত দেড় দশকে গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। নির্যাতন, হামলা, মামলা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তাঁরা রাজপথে থেকে সংবাদচিত্র ধারণ করেছেন। তাঁদের তোলা ছবি দেশের মানুষের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছেও আন্দোলনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে নুরুদ্দিন আহমেদ, এবিএম রফিকুর রহমান, নাসিম সিকদার এবং দেলোয়ার হোসেন বাদল বক্তব্য রাখেন। এ সময় বিপিজেএর নির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সন্ধানী বার্তা/আরআই/এমকে