মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মামলায় শুনানি শেষে জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে এক দিন অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে প্রায় ১০ জন ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী নিয়ে আদালতে হাজির হন পরীমনি। বেলা ১১টার দিকে আদালত প্রাঙ্গণে একটি সাদা গাড়ির ভেতরে তাকে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। এ সময় কালো পোশাক পরা নিরাপত্তাকর্মীরা গাড়ির দুই পাশে অবস্থান নেন।
পরীমনির উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়লে আদালত এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। নিরাপত্তাকর্মীরা গাড়ির আশপাশে থাকা আইনজীবী, গণমাধ্যমকর্মী ও বিচারপ্রার্থীদের সরিয়ে দেন। পরে শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
যে কারণে জারি হয়েছিল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
মামলাটিতে বুধবার (৪ নভেম্বর) সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু নির্ধারিত দিনে আদালতে উপস্থিত হননি পরীমনি। তার আইনজীবী আদালতে সময়ের আবেদন জানিয়ে বলেন, অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণে পরীমনি হাজির হতে পারেননি।
অন্যদিকে, বাদীপক্ষের আইনজীবী আসামিদের জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান পরীমনির সময়ের আবেদন নাকচ করে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। ওই আদেশের এক দিন পরই আদালতে হাজির হয়ে জামিন পেলেন এই চিত্রনায়িকা।
নাসিরের করা মামলায় আরও দুই আসামি
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মামলায় পরীমনির পাশাপাশি আরও দুজনকে আসামি করা হয়। তারা হলেন ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি এবং পরীমনির কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম।
মামলার তদন্ত শেষে ২০২৪ সালে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে পরীমনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
যে অভিযোগে মামলাটি করেছিলেন নাসির
২০২১ সালের ৬ জুলাই বোট ক্লাবের তৎকালীন সভাপতি ও ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ওই বছরের ৯ জুন রাতে সাভারের বোট ক্লাবে পরীমনি ও তার সহযোগীদের সঙ্গে নাসির উদ্দিনের বিরোধ হয়। একপর্যায়ে তাকে গালমন্দ ও মারধর করা হয়। এ সময় তার দিকে একটি সার্ভিং গ্লাস ও মোবাইল ফোন ছুড়ে মারা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এতে তার মাথা ও বুকে আঘাত লাগে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি ক্লাবে ভাঙচুর ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়।
এর আগে ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি মামলাটিতে পরীমনিসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। সেদিনও পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মামলায় সর্বশেষ আদালতে অনুপস্থিতির কারণে আবারও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল পরীমনির বিরুদ্ধে। তবে বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির হয়ে শুনানির পর জামিন পাওয়ায় আপাতত সেই পরোয়ানার জটিলতা কাটল।
সন্ধানী বার্তা/এসএ/জেএন