বিনোদন

সালমান শাহ হত্যা মামলার প্রতিবেদন ৮ ডিসেম্বর

চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পিছিয়েছে। মামলায় তাঁর সাবেক স্ত্রী সামীরা হক ও খলনায়ক আশরাফুল হক ডনসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৮ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা নতুন এ তারিখ নির্ধারণ করেন। এদিন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক মো. মুজিবুর রহমান আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি। এ কারণে নতুন দিন ধার্য করা হয়।

সামীরা ও ডনসহ ১১ জন আসামি
সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সাবেক স্ত্রী সামীরা হক ও খলনায়ক ডনসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন সামীরা হকের মা লতিফা হক লুছি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।

আসামিদের মধ্যে এখন পর্যন্ত একমাত্র গ্রেপ্তার হয়েছেন খলনায়ক ডন। গত ২৭ আগস্ট তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে ৯ সেপ্টেম্বর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।

অপমৃত্যু মামলা থেকে হত্যা মামলা
দীর্ঘদিন ধরে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনাটি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলছিল। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে এই চিত্রনায়কের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই সময় তাঁর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী অপমৃত্যুর মামলা করেছিলেন।

পরবর্তী সময়ে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করা হয়। বিষয়টি তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। তদন্ত শেষে একই বছরের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় সিআইডি। ওই প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ২৫ নভেম্বর আদালত প্রতিবেদনটি গ্রহণ করেন।

একাধিকবার তদন্ত ও প্রতিবেদন নিয়ে আপত্তি
সিআইডির প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট না হয়ে এর বিরুদ্ধে রিভিশন মামলা করেন সালমান শাহর বাবা। পরে ২০০৩ সালের ১৯ মে আদালত মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক। ওই প্রতিবেদনেও সালমান শাহর মৃত্যুকে অপমৃত্যু বলা হয়।

পরবর্তী সময়ে তাঁর বাবা মারা গেলে মা নীলা চৌধুরী মামলার বাদী হিসেবে যুক্ত হন। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজির আবেদন করেন। এরপর মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) মাধ্যমে তদন্ত করা হয়। ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর আদালত পিবিআইয়ের প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলাটি নিষ্পত্তি করেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে ২০২২ সালের ১২ জুন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন মামলা দায়ের করা হয়।

গত বছর হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ
সর্বশেষ গত বছরের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় করা অপমৃত্যু মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন আদালত। ওই নির্দেশের পরদিন মধ্যরাতে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তাঁর ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রমনা মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় সামীরা হক, ডনসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। মামলাটির তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৮ ডিসেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।

সন্ধানী বার্তা/এসএ/জেএন


সম্পর্কিত খবর