ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদকে মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর জামিন নিতে আদালতে এসেছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে গাড়ি নিয়ে পৌঁছান তিনি।
আদালতে পৌঁছানোর পর থেকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত গাড়ির ভেতরেই অবস্থান করছিলেন পরীমনি। এ সময় তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীরা গাড়িটি ঘিরে রাখেন। ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমানের আদালতে মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
যেভাবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
মামলাটিতে গত বুধবার (৪ নভেম্বর) সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তবে নির্ধারিত দিনে আদালতে হাজির হননি পরীমনি। তার পক্ষে আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী সময়ের আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণে আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি তিনি।
তবে আসামিপক্ষের এই আবেদনের বিরোধিতা করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম মোহাম্মদ সোহেল। তিনি পরীমনির জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানান। তার দাবি, পরীমনি ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতে হাজির না হয়ে বারবার সময়ের আবেদন করছেন, এতে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে।
পরে আদালত পরীমনির সময়ের আবেদন নাকচ করে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২৩ ডিসেম্বর দিন ধার্য করা হয়।
চার বছর আগে নাসিরের করা মামলা
মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে ২০২২ সালের ৬ জুলাই আদালতে মামলাটি করেন উত্তরার ঢাকা বোট ক্লাবের পরিচালক নাসির উদ্দিন মাহমুদ। তার অভিযোগ, ২০২১ সালের ৮ জুন রাতে বোট ক্লাবে গিয়ে পরীমনি তাকে মারধর ও হুমকি দেন। এ ঘটনায় পরীমনির সহযোগী জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়।
মামলাটি তদন্ত করে ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ পিবিআই। ঢাকা জেলার পিবিআই পরিদর্শক মো. মনির হোসেন তদন্ত শেষে পরীমনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমিকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন দেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, ২০২১ সালের ৮ জুন রাতে পরীমনি বোট ক্লাবে গিয়ে বিনা মূল্যে তিন লিটারের ব্লু লেবেল মদের পার্সেল নিতে না পেরে নাসির উদ্দিনের ওপর ক্ষিপ্ত হন। একপর্যায়ে তিনি নাসিরের দিকে অ্যাশট্রে ছুড়ে মারেন, এতে তার ডান কানের ওপর মাথায় আঘাত লাগে। এ ছাড়া ক্লাবের বারের ভেতরে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগও আনা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বারের ভেতরে ভাঙচুরে বাধা দিলে পরীমনির সহযোগী জুনায়েদ বোগদাদী জিমি নাসির উদ্দিনকে কিল-ঘুষি মারেন। এসব অভিযোগ তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এলেও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।
আগেও জারি হয়েছিল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
মামলাটিতে ২০২৫ সালের ২৬ জুন অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। ওই দিন আদালতে উপস্থিত না থাকায় পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরদিন ২৭ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।
এরপর মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলতে থাকে। তবে সর্বশেষ সাক্ষ্যগ্রহণের দিন আদালতে অনুপস্থিত থাকায় আবারও তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এবার সেই পরোয়ানার পর জামিন চাইতে আদালতে এসেছেন এই চিত্রনায়িকা।
নাসিরের বিরুদ্ধেও মামলা করেছিলেন পরীমনি
নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মামলার পেছনে রয়েছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঘটনা। ২০২১ সালের ৮ জুন রাতে বোট ক্লাবে যাওয়ার পরই এ ঘটনার সূত্রপাত। কয়েক দিন পর সংবাদ সম্মেলনে পরীমনি অভিযোগ করেন, ওই রাতে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা ও হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল।
এরপর ১৩ জুন তিনি নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হন নাসির। পরে জামিনে মুক্তি পান তিনি। পরীমনির করা ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার মামলাটির বিচার বর্তমানে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে চলছে।
দুই পক্ষের করা মামলার বিচারিক কার্যক্রম আলাদাভাবে চলমান রয়েছে। এর মধ্যে নাসির উদ্দিনের করা মামলায় নতুন করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর জামিন নিতে আদালতে উপস্থিত হলেন পরীমনি।
সন্ধানী বার্তা/এসএ/জেএন