জাতীয়

দপ্তরে দপ্তরে কাজের হিসাব, জবাবদিহিতার নতুন তাগিদ

সরকারি দপ্তরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কর্মদক্ষতা নিশ্চিত করে জনসেবার গতি বাড়াতে সরকারি কর্মসম্পাদন পরিবীক্ষণ পদ্ধতি আরও কার্যকর ও সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী সরকারি দপ্তরগুলো কতটা কাজ করছে, লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কতটা অগ্রগতি হচ্ছে এবং দায়িত্ব পালনে কতটা কার্যকারিতা রয়েছে—এসব বিষয় নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সরকারি কর্মসম্পাদন পরিবীক্ষণ পদ্ধতির বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণে নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

রবিবার (০১ নভেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সরকারি কর্মসম্পাদন পরিবীক্ষণ পদ্ধতি (জিপিএমএস) বাস্তবায়নে গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

  • কর্মসম্পাদন পরিবীক্ষণ পদ্ধতি সহজীকরণে কমিটি গঠন
  • ৫২ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কার্যক্রম পর্যালোচনা

সরকারি চাকরিতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, কার্যকারিতা ও গতিশীলতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে জনসেবা আরও বেগবান করাই এ পদ্ধতি বাস্তবায়নের মূল লক্ষ্য। সভায় সরকারি কর্মসম্পাদন পরিবীক্ষণ পদ্ধতির সার্বিক অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের কর্মসম্পাদন পরিবীক্ষণ পদ্ধতি পর্যালোচনা করা হয়।

পরিকল্পনার পাশাপাশি বাস্তবায়নের অগ্রগতিতে নজর
সরকারি দপ্তরগুলোর কর্মসম্পাদন মূল্যায়নে শুধু পরিকল্পনা প্রণয়ন ও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ নয়, বরং নির্ধারিত সময়ে সেসব লক্ষ্য কতটা অর্জিত হচ্ছে, তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সভায় বিগত ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বাস্তবায়িত সরকারি কর্মসম্পাদন পরিবীক্ষণ পদ্ধতির সার্বিক মূল্যায়ন প্রতিবেদনও পর্যালোচনা করা হয়।

এ ছাড়া সরকারি দপ্তরগুলোতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, সরকারের নীতি অনুযায়ী সময়াবদ্ধ পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং অর্পিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কার্যকর পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। মূলত সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাজের অগ্রগতি পরিমাপ, দায়িত্ব পালনের কার্যকারিতা যাচাই এবং নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এ পদ্ধতির অন্যতম উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে সরকারি সেবার মান ও গতি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের লক্ষ্য।

পদ্ধতি সহজীকরণে নতুন কমিটি
সরকারি কর্মসম্পাদন পরিবীক্ষণ পদ্ধতি সহজীকরণ এবং মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো (এমটিবিএফ) সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ প্রদানের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে সভায়। কমিটি এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবে। কর্মসম্পাদন পরিকল্পনা, বাজেট কাঠামো এবং বাস্তবায়ন কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও এ উদ্যোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে সরকারি দপ্তরগুলোর পরিকল্পনা ও সম্পদ ব্যবহারের কার্যকারিতা মূল্যায়নে এ কমিটির সুপারিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

৫২ মন্ত্রণালয় ও বিভাগসহ মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম
সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ২০ ধারা এবং সচিবালয় নির্দেশমালা, ২০২৪-এর ২৫৫ নম্বর নির্দেশনার আলোকে সরকারি অফিসগুলোর কর্মসম্পাদন ব্যবস্থাপনা সুদৃঢ় করার উদ্দেশ্যে সরকারি কর্মসম্পাদন পরিবীক্ষণ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। বর্তমানে ৫২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ, ৩৮৬টি দপ্তর ও সংস্থাসহ বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের মাঠপ্রশাসনে এ পদ্ধতির কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সভায় কমিটির সদস্য জনপ্রশাসন উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব ও সচিবরা সভায় অংশ নেন।

সরকারি কর্মসম্পাদন পরিবীক্ষণ পদ্ধতির কার্যকারিতা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে পরিকল্পনার যথাযথ বাস্তবায়ন, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর। সরকারি দপ্তরের কর্মদক্ষতা বাড়িয়ে নাগরিকের কাছে আরও দ্রুত ও মানসম্মত সেবা পৌঁছে দেওয়াই এ উদ্যোগের মূল প্রত্যাশা।

সন্ধানী বার্তা/এমএএএমকে


সম্পর্কিত খবর