আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক কঙ্গো। দেশটিতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর চলমান বিমান সহায়তা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রক্ষায় দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে নতুন কন্টিনজেন্ট। চারটি এমআই সিরিজের হেলিকপ্টার, বিভিন্ন ভূমি সহায়তা সরঞ্জাম এবং ১৩৪ সদস্যের জনবল নিয়ে ইউটিলিটি এভিয়েশন ইউনিট-২৩-এর এই যাত্রা কেবল একটি দলের প্রতিস্থাপন নয়; বরং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষার সক্ষমতা ও পেশাদারিত্ব তুলে ধরার আরেকটি সুযোগ।
নতুন কন্টিনজেন্টের যাত্রা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। গত ২৮ অক্টোবর ২৩ সদস্যের একটি দল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক কঙ্গোর উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে। অবশিষ্ট ১১২ সদস্য আগামী ৪ নভেম্বর দেশটির উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। নতুন কন্টিনজেন্টের নেতৃত্ব দেবেন এয়ার কমডোর এ টি এম ইরফানুর রহমান।
- চারটি এমআই সিরিজের হেলিকপ্টার ও ১৩৪ সদস্য নিয়ে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে ইউটিলিটি এভিয়েশন ইউনিট-২৩
- ২৮ অক্টোবর যাত্রা করেছেন ২৩ সদস্য, বাকিরা যাচ্ছেন ৪ নভেম্বর
বর্তমানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর চারটি এমআই সিরিজের হেলিকপ্টার ও বিভিন্ন ভূমি সহায়তা সরঞ্জামসহ ১৩৪ সদস্য ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক কঙ্গোতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত রয়েছেন। তাঁদের স্থলাভিষিক্ত হবে নতুন দল। ফলে জনবল ও সরঞ্জামের সমন্বয়ে বিদ্যমান বিমান সহায়তা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই নতুন কন্টিনজেন্টের অন্যতম দায়িত্ব।

পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালনের আহ্বান
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সামরিক দক্ষতার পাশাপাশি শৃঙ্খলা, সততা, পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এসব মিশনে সদস্যদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে শুধু নিজ নিজ বাহিনীর মর্যাদাই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তিও জড়িত। সে বিবেচনায় নতুন কন্টিনজেন্টের সদস্যদের প্রতি বিমান বাহিনী প্রধানের নির্দেশনা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
রবিবার (১ নভেম্বর) ঢাকা সেনানিবাসস্থ বিমান বাহিনী সদর দপ্তরে কঙ্গোগামী সদস্যদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে শৃঙ্খলা, সততা, পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী তথা দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিমান বাহিনী প্রধানের এই বক্তব্যে শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে। প্রথমত, অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে সম্পন্ন করা। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখা। অর্থাৎ, নতুন সদস্যদের কাছে প্রত্যাশা কেবল দায়িত্ব পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তাঁদের আচরণ, শৃঙ্খলা ও পেশাগত নিষ্ঠার মধ্য দিয়েও দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে হবে।

প্রতিস্থাপনের আড়ালে বড় দায়িত্ব
একটি শান্তিরক্ষা কন্টিনজেন্টের প্রতিস্থাপনকে সাধারণ জনবল পরিবর্তন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর সঙ্গে যুক্ত থাকে দায়িত্বের ধারাবাহিকতা, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের প্রস্তুতি এবং নতুন সদস্যদের দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি। কঙ্গোতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বর্তমান চারটি হেলিকপ্টার ও সংশ্লিষ্ট ভূমি সহায়তা সরঞ্জামসহ ১৩৪ সদস্যের উপস্থিতি সেই দায়িত্বের ব্যাপ্তি তুলে ধরে।
নতুন ইউটিলিটি এভিয়েশন ইউনিট-২৩ একই ধরনের জনবল ও সরঞ্জাম নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছে। ফলে বিদ্যমান কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং মিশনের প্রয়োজন অনুযায়ী পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব সম্পাদন করাই হবে নতুন দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
কঙ্গোগামী কন্টিনজেন্টের সাফল্য কামনায় আয়োজিত বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন বিমান বাহিনী প্রধান। অনুষ্ঠানে বিমান সদরের প্রধান স্টাফ কর্মকর্তারা, ঢাকাস্থ বিমান কর্মকর্তারা এবং বিমান সদর ও বিভিন্ন ঘাঁটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১৩৪ সদস্যের নতুন এই কন্টিনজেন্টের যাত্রা বাংলাদেশের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতারই প্রতিফলন। কঙ্গোর আকাশে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে নতুন দলকে একদিকে যেমন অর্পিত পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে হবে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের মর্যাদা ও সুনাম সমুন্নত রাখার প্রত্যাশাও পূরণ করতে হবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
সন্ধানী বার্তা/এমএএএমকে