জাতীয়

ক্ষমতার অপব্যবহার নয়, রাষ্ট্রের সেবায় রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ছাত্রজীবনে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকতেই পারে, তবে কর্মজীবনে তার কোনো প্রতিফলন দেখতে চান না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের পেশাগত পরিচয় ও আচরণে রাজনৈতিক প্রভাবের কোনো জায়গা থাকা উচিত নয়—নবীন পুলিশ ও আনসার কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এমন বার্তাই দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে দূরে থাকা, সার্ভিস রুলস মেনে চলা এবং আইন প্রয়োগে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও বিচক্ষণতার নির্দেশ দিয়েছেন।

রবিবার (০১ নভেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ৪৫তম বিসিএসের পুলিশ ও আনসার ক্যাডারে নবযোগদানকৃত কর্মকর্তাদের ব্রিফিং ও পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

  • ৪৫তম বিসিএসের নবযোগদানকৃত ৮৪ পুলিশ ও আনসার কর্মকর্তাকে ব্রিফিং
  • ছাত্রজীবনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা কর্মজীবনে প্রতিফলিত না করার নির্দেশ
  • রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও জনগণের স্বস্তি নিশ্চিতে দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ

নবীন কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, সুপিরিয়র সার্ভিসে তাঁদের প্রধানতম দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ সমুন্নত রাখা এবং এর মাধ্যমে দেশের সব কার্যক্রম সুচারুরূপে সম্পন্ন করার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা। প্রশাসন, উন্নয়ন, সমাজের সামগ্রিক নিরাপত্তা এবং জনগণের স্বস্তি অনেকাংশে তাঁদের কার্যক্রমের ওপর নির্ভরশীল।

ছাত্রজীবনের পরিচয় নয়, কর্মজীবনে পেশাদারিত্ব
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে নবীন কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার প্রসঙ্গটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ছাত্রজীবনে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা থাকতে পারে—এ বাস্তবতা স্বীকার করেই তিনি স্পষ্ট করেছেন, সেই পরিচয় যেন কোনোভাবেই কর্মজীবনে প্রতিফলিত না হয়। অর্থাৎ, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে পেশাগত দায়িত্ব ও আইনানুগ আচরণই প্রাধান্য পাওয়ার কথা তুলে ধরেছেন তিনি। এই নির্দেশনার পাশাপাশি সার্ভিস লাইফে সর্বদা শৃঙ্খলা ও সার্ভিস রুলস মেনে চলার ওপর জোর দেন মন্ত্রী। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের আইনানুগ নির্দেশ প্রতিপালনের বিষয়েও কঠোর নির্দেশনা দেন তিনি।

আইন প্রয়োগে সিদ্ধান্তের ভুলের সুযোগ কম
পুলিশ ও আনসার ক্যাডারের দায়িত্বের ধরন যে অন্য ক্যাডার সার্ভিস থেকে আলাদা, সেটিও নবীন কর্মকর্তাদের স্মরণ করিয়ে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর ভাষায়, পুলিশ ও আনসার সম্পূর্ণ আলাদা এবং অত্যন্ত সংঘাতময় ও চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে কাজ করে। এখানে মুহূর্তের মধ্যে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এ ক্ষেত্রে বুদ্ধিমত্তা, পেশাদারিত্ব ও প্রেজেন্স অব মাইন্ড অত্যন্ত জরুরি।

আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও বিচক্ষণতা প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে তিনি পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে কোনো অবস্থাতেই যাতে ক্ষমতার অপব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে নবীন কর্মকর্তাদের কঠোরভাবে সতর্ক করেন।

৮৪ কর্মকর্তার যোগদান, সামনে বড় দায়িত্ব
৪৫তম বিসিএস পরীক্ষায় পুলিশ ক্যাডারে ৮০ জন এবং আনসার ক্যাডারে ২৫ জন কর্মকর্তা সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন জারির পর রবিবার (০১ নভেম্বর) পূর্বাহ্নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগদান করেন পুলিশ ক্যাডারের ৬৫ জন এবং আনসার ক্যাডারের ১৯ জন কর্মকর্তা। সব মিলিয়ে নতুন যোগদানকারী কর্মকর্তার সংখ্যা ৮৪।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) ও অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।

নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে মূলত তিনটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে—কর্মজীবনে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকা, আইন ও চাকরিবিধি মেনে চলা এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রয়োগে সংযম ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে এসব নির্দেশনা তাঁদের ব্যক্তিগত আচরণের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

সন্ধানী বার্তা/এমএএএমকে


সম্পর্কিত খবর