দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত এ রোগে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ১৬৭ জন।
সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বুলেটিন অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০৮ জনে। আর এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৪৪২ জন।
অক্টোবরের ১১ দিনেই মৃত্যু ৬২ জনের
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম ১১ দিনেই ডেঙ্গুতে ৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে সর্বোচ্চ ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়। আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং জুনে ১৩ জন ডেঙ্গুতে প্রাণ হারান। মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি—প্রতিটি মাসে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
মাসভিত্তিক মৃত্যুর এই হিসাব বলছে, চলতি বছরের মৃত্যুর বড় অংশই ঘটেছে সাম্প্রতিক কয়েক মাসে। বিশেষ করে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের শুরুতে মৃত্যুর সংখ্যা পরিস্থিতির উদ্বেগজনক দিকটি তুলে ধরছে।
এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি ২১৬৭ জন
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়, রোববার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২ হাজার ১৬৭ জন ভর্তি হয়েছেন।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে, ৮৭১ জন। এ ছাড়া খুলনায় ২৯৮ জন, চট্টগ্রামে ২৮৭ জন, রাজশাহীতে ২৫৩ জন, বরিশালে ২৪৩ জন, ময়মনসিংহে ১০২ জন এবং রংপুরে ৯২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বিভাগভিত্তিক এই চিত্রে ঢাকা বিভাগে রোগীর চাপ সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। তবে দেশের অন্যান্য বিভাগেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।
সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯৫ হাজারের বেশি রোগী
নতুন রোগী ভর্তির পাশাপাশি ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ২ হাজার ৪২৮ জন।
এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মোট ৯৫ হাজার ৩৩১ জন। তবে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ এবং ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সতর্কতা জরুরি
ডেঙ্গু সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ি, ছাদ, বারান্দা ও আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং পানি জমতে পারে এমন পাত্র খালি রাখা প্রয়োজন।
জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, শরীরব্যথা বা ডেঙ্গুর সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ইতিমধ্যে এক লাখ ছাড়িয়েছে। এক দিনে নতুন রোগী ভর্তি ও মৃত্যুর সংখ্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্কতা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে।
সন্ধানী বার্তা/এসকে/এমএসআইপি