বিনোদন

হিমঘরে নাসিমা খানের মরদেহ

বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নাসিমা খানের জানাজা ও দাফন আগামী বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তাঁর বড় ছেলে শাবাব নাসিম রহমান দেশে ফেরার পর এ আয়োজন সম্পন্ন করা হবে। এর আগ পর্যন্ত অভিনেত্রীর মরদেহ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও অভিনেতা সনি রহমান। তিনি জানান, নাসিমা খানের বড় ছেলে দেশে ফিরলে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) তাঁর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হবে। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে শাবাব নাসিম রহমান যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

এক ছেলে বিদেশে, অন্য ছেলে নিখোঁজ

নাসিমা খানের পারিবারিক জীবনে নেমে এসেছে এক বেদনাদায়ক পরিস্থিতি। তাঁর বড় ছেলে শাবাব নাসিম রহমান যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। অন্যদিকে, ছোট ছেলে নাবিল নাছির রহমান কুশল কয়েক মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন।

জীবনের শেষ সময়ে দুই ছেলের কারও সঙ্গেই শেষবারের মতো দেখা হয়নি এই অভিনেত্রীর। বড় ছেলে দেশে ফেরার পর মায়ের শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নাসিমা খান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের শুরুর দিকের অভিনেত্রীদের মধ্যে নাসিমা খান ছিলেন অন্যতম। তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আজীবন সদস্য ছিলেন। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে বাংলা ও উর্দু—দুই ভাষার চলচ্চিত্রেই কাজ করেছেন তিনি।

১৯৫৯ সালে বড় পর্দায় অভিষেক

১৯৫৯ সালে ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হয় নাসিমা খানের। এরপর ১৯৬১ সালে ‘যে নদী মরু পথে’ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে পরিচিতি লাভ করেন তিনি।

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে ‘ধারাপাত’, ‘কার বউ’, ‘উজালা’, ‘বেগানা’, ‘আপন দুলাল’, ‘উলঝন’, ‘ম্যায় ভি ইনসান হু’, ‘দুই ভাই’, ‘গৌরী’, ‘আমার বৌ’ ও ‘ঢেউয়ের পরে ঢেউ’-এর মতো উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রাথমিক বিকাশের সময় থেকে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন নাসিমা খান। তাঁর মৃত্যুতে চলচ্চিত্র অঙ্গনে একটি দীর্ঘ অভিনয় অধ্যায়ের অবসান ঘটল।

সন্ধানী বার্তা/এসএ


সম্পর্কিত খবর