আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের জ্বালানি যুদ্ধবিরতি ভেঙে রাশিয়ার হামলা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ লঙ্ঘন করে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও গ্যাস অবকাঠামোয় হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রুশ বাহিনী দেশটির একাধিক জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে চুক্তি কার্যকর করতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার (১১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প দাবি করেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন পরস্পরের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ রাখতে একটি বিশেষ ‘এনার্জি যুদ্ধবিরতি’তে সম্মত হয়েছে। তবে জেলেনস্কির অভিযোগ, ঘোষণার পরও রুশ হামলা অব্যাহত থাকায় এই সমঝোতার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

কিয়েভের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও খারকিভের গ্যাস স্থাপনায় হামলা

ওয়ারশ সিকিউরিটি ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে জেলেনস্কি জানান, রাশিয়ার একটি ড্রোন ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত হেনেছে। এ ছাড়া খারকিভ অঞ্চলে রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানি নাফটোগাজের একটি গ্যাস উৎপাদন স্থাপনাও হামলার শিকার হয়েছে। এতে স্থাপনাটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা ইউক্রেনের বিদ্যুৎ সরবরাহ, গ্যাস উৎপাদন এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে শীতের আগে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

জেলেনস্কির বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও এসব স্থাপনায় হামলা চালানো হলে সমঝোতার বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়বে।

রাশিয়া হামলা বন্ধ করলে পাল্টা আক্রমণ থামাবে ইউক্রেন

জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়া যদি ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ রাখে, তাহলে কিয়েভও রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে পাল্টা হামলা বন্ধ রাখতে প্রস্তুত। এ বিষয়ে লিখিত নিশ্চয়তা দিতেও ইউক্রেন রাজি বলে জানান তিনি।

দুই পক্ষের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ হলে যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের উত্তেজনা কমতে পারে। তবে এ ধরনের সমঝোতা কার্যকর রাখতে উভয় পক্ষের সম্মতি, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং তা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ইউক্রেনের অবস্থান অনুযায়ী, শুধু যুদ্ধবিরতির ঘোষণা যথেষ্ট নয়; বাস্তবে হামলা বন্ধ হচ্ছে কি না, সেটিই হবে চুক্তির কার্যকারিতা নির্ধারণের প্রধান বিষয়।

চুক্তি কার্যকরে ওয়াশিংটনের সরাসরি ভূমিকা চান জেলেনস্কি

জেলেনস্কির মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন সরাসরি উদ্যোগ নিয়ে রাশিয়াকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে বাধ্য করলেই এ সমঝোতা কার্যকর হতে পারে। তাঁর বক্তব্য, জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের উদ্যোগ সফল হলে তা বৃহত্তর যুদ্ধ বন্ধের পথেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হয়ে উঠতে পারে।

এদিকে ট্রাম্পের ঘোষিত সমঝোতা নিয়ে ইউক্রেন ও ইউরোপের মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগের কথা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। জ্বালানির উচ্চমূল্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ চাপের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প এ উদ্যোগ নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার বিষয়ে তাঁর ঘোষিত একটি চুক্তিও ইউক্রেনের অসন্তোষের কারণ হয়েছে।

সব মিলিয়ে, জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের ঘোষণাকে বাস্তবে কার্যকর করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষ হামলা বন্ধ রাখে কি না এবং যুক্তরাষ্ট্র কী ভূমিকা নেয়, তার ওপর এই উদ্যোগের পরবর্তী অগ্রগতি নির্ভর করবে।

সন্ধানী বার্তা/এসএ


সম্পর্কিত খবর