নিজের পছন্দের গেম তৈরি করতে আর প্রোগ্রামিং শেখা কিংবা জটিল সফটওয়্যার ব্যবহারের প্রয়োজন হবে না। গেমটি দেখতে কেমন হবে, কীভাবে খেলতে হবে কিংবা এতে কী ধরনের চরিত্র ও পরিবেশ থাকবে—এসব সাধারণ ভাষায় লিখে জানালেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে গেম তৈরির সুযোগ দেবে গুগল ল্যাবসের নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘প্লেগ্রাউন্ড’। গেম তৈরির পাশাপাশি সেগুলো খেলা ও অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করার সুবিধাও থাকবে এতে।
গুগলের এ উদ্যোগের লক্ষ্য, যাঁরা গেম তৈরি করতে আগ্রহী কিন্তু প্রোগ্রামিংয়ে দক্ষ নন, তাঁদের জন্য গেম নির্মাণের প্রক্রিয়া সহজ করা। ফলে প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি সৃজনশীল ধারণার ভিত্তিতেও গেম তৈরির সুযোগ বাড়তে পারে।
কোড নয়, নির্দেশনা দিয়েই তৈরি হবে গেম
প্রচলিত পদ্ধতিতে গেম তৈরি করতে প্রোগ্রামিং, নকশা এবং বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহারের দক্ষতা প্রয়োজন হয়। কিন্তু প্লেগ্রাউন্ডে ব্যবহারকারীরা কোড লেখার পরিবর্তে সাধারণ ভাষায় নিজেদের পরিকল্পনা তুলে ধরতে পারবেন। সেই নির্দেশনার ভিত্তিতে এআই গেম তৈরিতে সহায়তা করবে।
প্ল্যাটফর্মটিতে একেবারে খালি ক্যানভাস থেকে কাজ শুরু করার সুযোগ রয়েছে। চাইলে নমুনা নির্দেশনা ব্যবহার করেও গেম তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে। গেমের ধরন, চরিত্র, খেলার নিয়ম, গতিবিধি ও পরিবেশ সম্পর্কে নির্দেশনা দিয়ে নিজের পরিকল্পনার সঙ্গে মিল রেখে গেম সাজানো যাবে।
পরিবর্তন আনতে নতুন করে শুরু করতে হবে না
প্রথমবার গেম তৈরির পর কোনো অংশ পছন্দ না হলে পুরো কাজ আবার শুরু করার প্রয়োজন হবে না। চ্যাটের মাধ্যমে নির্দেশনা দিয়েই গেমের বিভিন্ন উপাদান পরিবর্তন করা যাবে। নতুন চরিত্র যোগ করা, খেলার নিয়ম বদলানো কিংবা গেমের পরিবেশে পরিবর্তন আনার মতো কাজ ধাপে ধাপে করা সম্ভব হবে।
পরিবর্তনগুলো সরাসরি ওয়েব ব্রাউজারে পরীক্ষা করে দেখার সুযোগও থাকবে। এতে ব্যবহারকারীরা নিজেদের ধারণা অনুযায়ী গেমের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য পরিমার্জন করতে পারবেন। অর্থাৎ, শুধু প্রাথমিক ধারণা থেকে গেম তৈরি নয়, বরং পরীক্ষা ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সেটিকে আরও উন্নত করার সুযোগও দেবে প্ল্যাটফর্মটি।
ব্রাউজারেই খেলা ও শেয়ারের সুযোগ
প্লেগ্রাউন্ডে তৈরি গেম সরাসরি ওয়েব ব্রাউজারে খেলা যাবে। ফলে স্মার্টফোন ও ল্যাপটপের মতো বিভিন্ন যন্ত্র থেকে গেম খেলার সুযোগ থাকবে। তৈরি করা গেম ব্যক্তিগতভাবে সংরক্ষণ করা, লিংকের মাধ্যমে অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করা কিংবা প্ল্যাটফর্মের ‘এক্সপ্লোর’ গ্যালারিতে প্রকাশ করার সুবিধাও রয়েছে।
এ ধরনের সুবিধার ফলে গেম নির্মাতারা নিজেদের তৈরি গেম অন্যদের দেখাতে পারবেন। পাশাপাশি অন্য ব্যবহারকারীদের তৈরি গেম ঘুরে দেখার সুযোগও মিলবে। তবে গেমের ধরন ও প্ল্যাটফর্মের সুবিধা অনুযায়ী কিছু কার্যক্রমের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে।
গুগল ওয়ান মেম্বারশিপ লাগবে
গুগল জানিয়েছে, প্লেগ্রাউন্ডকে প্রচলিত গেম তৈরির সফটওয়্যারের বিকল্প হিসেবে তৈরি করা হয়নি। বরং সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য গেম তৈরির প্রাথমিক অভিজ্ঞতা সহজ করাই এর উদ্দেশ্য। প্ল্যাটফর্মটির গেম তৈরির সুবিধা ব্যবহার করতে গুগল ওয়ান মেম্বারশিপ প্রয়োজন হবে। পর্যায়ক্রমে এটি সবার জন্য উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
গেম তৈরির সুযোগ আরও বিস্তৃত করতে সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইউনিটির সঙ্গেও কাজ করছে গুগল। এর অংশ হিসেবে প্লেগ্রাউন্ডের সঙ্গে ইউনিটি স্পার্কের সংযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
এ উদ্যোগ সফল হলে গেম তৈরিতে আগ্রহী নতুন ব্যবহারকারীরা আরও সহজে নিজেদের ধারণাকে খেলায় রূপ দিতে পারবেন। তবে প্ল্যাটফর্মটির কার্যকারিতা, প্রবেশাধিকার ও সুবিধার পরিধি সম্পর্কে চূড়ান্ত অভিজ্ঞতা নির্ভর করবে গুগলের বাস্তবায়ন এবং ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা সুযোগের ওপর।
সূত্র: নিউজ১৮
সন্ধানী বার্তা/এসএ