তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষার ব্যবহার আরও সহজ ও সমৃদ্ধ করতে তৈরি করা ইউনিকোড ‘বাংলা একাডেমি’ ফন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলা একাডেমির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে বাংলা একাডেমির শহীদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমের কাছে ফন্টটি হস্তান্তর করা হয়। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের আগেই বাংলা একাডেমি বই ও পত্রিকা প্রকাশে ফন্টটি ব্যবহার করেছে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধকরণ’ প্রকল্পের আওতায় ফন্টটি তৈরি করা হয়েছে।
প্রকল্পের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাকে একটি নেতৃস্থানীয় ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা এবং ওয়েব, মোবাইল ও কম্পিউটারে বাংলা ব্যবহারে বিদ্যমান প্রযুক্তিগত প্রতিবন্ধকতা দূর করা।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দুই যুগের বেশি সময় ধরে কম্পিউটারে বাংলা ফন্ট ব্যবহৃত হলেও ইউনিকোড মান অনুসরণের পরও এনকোডিং, ভাষাগত ও ভিজ্যুয়াল নানা সমস্যা রয়ে গেছে। বিদ্যমান বাংলা ইউনিকোড ফন্ট বিশ্লেষণ করে এসব সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধানের মাধ্যমে ‘বাংলা একাডেমি’ ফন্টটি তৈরি করা হয়েছে।
ফন্টটিতে বাংলা ও ইংরেজি বর্ণের সম-আকৃতি, উপযুক্ত বিরামচিহ্ন, য-ফলা ও র-ফলা ব্যবহারের সুবিধা, স্বয়ংক্রিয় পৃষ্ঠা নম্বর, বুলেট ও ফুটনোট, শিশু উপযোগী যুক্তবর্ণসহ মুদ্রণ ও ডিজিটাল প্রকাশনার বিভিন্ন সুবিধা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে মাইক্রোসফট অফিস ও অ্যাডোবির পেশাদার প্রকাশনা সফটওয়্যারে ব্যবহারের উপযোগী করে এটি তৈরি করা হয়েছে।
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, ফন্টটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে মেধাস্বত্বের দিক থেকে কোনো বাধা তৈরি করা হবে না। দীর্ঘদিন ধরে এর উন্নয়নকাজ চলছে এবং ব্যবহারের সময় তৈরি হওয়া সমস্যাগুলোও সমাধান করা হয়েছে।
সন্ধানী বার্তা/ডিএইচ/এমএসআইপি