পশ্চিমবঙ্গে টানটান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে দুই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ভোট চলবে বিকেল ৬টা পর্যন্ত। আগামী ৯ অক্টোবর ভোট গণনা হবে।
কড়া নিরাপত্তায় ভোটগ্রহণ
উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই আসনেই নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। মোট ৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে নন্দীগ্রামে ৩৭ কোম্পানি এবং রেজিনগরে ৩৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে।
রেজিনগরকে উত্তেজনাপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের ৮১৯ জন অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
নন্দীগ্রামে ৯ প্রার্থী
নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ৯ জন প্রার্থী। বিজেপির প্রার্থী হাসিরানি রথ। তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথের মা। চলতি বছর উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে গুলিতে নিহত হন চন্দ্রনাথ রথ।
কংগ্রেসের প্রার্থী মিলন প্রধান। মমতাপন্থি তৃণমূল কংগ্রেস এ আসনে কোনো প্রার্থী দেয়নি। কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়েছেন মমতা ব্যানার্জি।
এ ছাড়া বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থিদের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মো. এতেশামুল হক। বামপন্থি প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন শান্তিগোপাল গিরি।
নন্দীগ্রামে মোট ৩২৩টি বুথে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। এর মধ্যে ৮৫টি বুথকে স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ কেন্দ্রে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩৮ হাজার ৯৫৫ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ২৭ হাজার ৪৬৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার একজন।
রেজিনগরে লড়াই ১৫ প্রার্থীর
রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ১৫ জন প্রার্থী। উন্নয়ন জনতা পার্টির হয়ে লড়ছেন বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের ছেলে গোলাম নবী আজাদ।
বিজেপির প্রার্থী শাখারভ সরকার। মমতাপন্থি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী রবিউল ইসলাম। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী শফিউজ্জামান শেখ।
এ ছাড়া জাতীয় কংগ্রেসের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মহম্মদ আবদুলহিলা কাফি।
রেজিনগরে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩৫ হাজার ১৪ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ২২ হাজার ৬৩৮ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন পাঁচজন।
ভোট শুরুর পরই উত্তেজনা
ভোটগ্রহণ শুরুর পরই রেজিনগরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান ও বিধায়ক হুমায়ুন কবির পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।
তার দাবি, তার বাড়ি পুলিশ ঘিরে রেখেছে। পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রে তার দলের এজেন্টদের ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে নন্দীগ্রামে ভোট দেওয়ার পর কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান অভিযোগ করেন, ভোটারদের ভোট দেওয়া থেকে বিরত রাখতে আগের রাত থেকেই এলাকায় অশান্তির পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার দলের এজেন্টদের বুথে বসতে দেওয়া হচ্ছে না। এজেন্টদের বিভিন্ন নথিও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও জানান মিলন প্রধান।
দুই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও অভিযোগের মধ্যেই চলছে ভোট। এখন ৯ অক্টোবরের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহল।
সন্ধানী বার্তা/এসএ