ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নে আশ্রয়হীনদের পুনর্বাসনের জন্য নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পটি এখন জলাবদ্ধতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রকল্পের ৫২টি ঘরের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ১৫টি পরিবার বসবাস করছে। বাকি ঘরগুলো অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্প এলাকায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। একবার বৃষ্টি হলে কয়েক দিন পর্যন্ত পানি জমে থাকে। অনেক ঘরের ভেতর, বারান্দা ও বাথরুমেও পানি ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বসবাসকারী পরিবারগুলো। চলাচলের রাস্তাগুলোও কাদা ও পানিতে বেহাল হয়ে থাকে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সরেজমিন দেখা যায়, প্রকল্পের পরিত্যক্ত ঘরগুলোর চারপাশ লতাপাতা ও ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ঘরে দিন-রাত মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। ফলে প্রকল্পে থাকা পরিবারগুলো জলাবদ্ধতার পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতাতেও ভুগছে।
প্রকল্পের বাসিন্দা মিনু আক্তার (৪০) বলেন, বৃষ্টির পানি বের হওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। একদিন বৃষ্টি হলে সাত দিন পর্যন্ত পানি জমে থাকে। ঘরে ও বারান্দায় পানি ঢুকে যায়, এমনকি বাথরুমেও পানি জমে থাকায় সেটি ব্যবহার করা যায় না। প্রতিদিন পানি সেচতে সেচতে হাতে ঘা হয়ে গেছে বলেও জানান তিনি।
আরেক বাসিন্দা জিয়াসমিন আক্তার বলেন, বৃষ্টির পর ঘরের সামনে দিনের পর দিন পানি জমে থাকে। কয়েক দিন আগে তাঁর আট মাসের শিশুসন্তান উঠানের পানিতে পড়ে গিয়েছিল। পানি কমে গেলে দুর্গন্ধ ছড়ায় এবং রাস্তায় হাঁটুসমান কাদা হয়। মশা-মাছির উপদ্রবও রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, অধিকাংশ বাসিন্দা দুর্ভোগ সহ্য করতে না পেরে প্রকল্প ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। তবে অসহায় পরিবারগুলোর অনেকের যাওয়ার মতো বিকল্প জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে এখনো সেখানে বসবাস করছেন।
ঢেউখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বয়াতি বলেন, প্রকল্পের বাসিন্দাদের দুর্দশা তিনি দেখেছেন। সেখানে বর্তমানে বসবাসের উপযুক্ত পরিবেশ নেই। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আগেই জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রকল্পটি নির্মাণের আগে মাটি ভরাট করা প্রয়োজন ছিল। এখন মাটি ভরাট করলে জলাবদ্ধতা আরও বাড়তে পারে। তাই বিকল্প হিসেবে চারপাশ দিয়ে পাকা ড্রেন নির্মাণ করে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার কথা ভাবা হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে তাঁর কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে প্রকল্পটি বসবাসের উপযোগী করা, পরিত্যক্ত ঘরগুলো সংস্কার এবং সেখানে মাদকসেবীদের আড্ডা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
সন্ধানী বার্তা/ডিএইচ/এমএসআইপি