দেশজুড়ে

চশমা ছাড়াই কোরআন পড়েন ১২৩ বছরের আব্বাস প্রামাণিক

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার যোগেন্দ্রনগর গ্রামের প্রবীণ আব্বাস প্রামাণিক। ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য অনুযায়ী তার বয়স ১২৩ বছর। তবে পরিবারের দাবি, প্রকৃত বয়স আরও বেশি। এ বয়সের পক্ষে স্বাধীন কোনো প্রমাণ না থাকলেও দীর্ঘ জীবনে তিনি ব্রিটিশ শাসন, পাকিস্তান আমল ও ভাষা আন্দোলনের মতো ঐতিহাসিক সময় প্রত্যক্ষ করেছেন।

বয়সের ভারে শরীর অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়লেও এখনও তার দৃষ্টিশক্তি ভালো। পরিবারের সদস্যদের দাবি, ১২৩ বছর বয়সেও তিনি চশমা ছাড়াই খালি চোখে কোরআন শরীফ পড়তে পারেন। বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের কাছেও বিস্ময়ের।

আব্বাস প্রামাণিকের বাড়ি উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের যোগেন্দ্রনগর গ্রামে। কর্মজীবনে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। দুই মেয়ে ও ছয় ছেলের বাবা আব্বাস একসময় মাত্র ৬০ টাকা বেতনে শিক্ষকতা করেছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি এলাকার ছেলে-মেয়েদের বিনামূল্যে কোরআন শিক্ষা দিতেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, আব্বাস প্রামাণিক বরাবরই সাদাসিধে জীবনযাপন করেছেন। বিলাসিতা তার পছন্দ ছিল না। দীর্ঘ জীবনে তিনি বেশিরভাগ সময় পায়ে হেঁটেই চলাচল করেছেন। গাড়ি বা অন্য কোনো যানবাহনে চড়াকে তিনি বিলাসিতা মনে করতেন। তার পছন্দের খাবারের মধ্যে রয়েছে বাতাসা, গরুর দুধ ও মসুর ডাল।

বর্তমানে বয়সের কারণে তার চলাফেরা সীমিত। একটি ভাঙা ঘরে বসবাস করলেও নাতি ও নাতি-বউয়েরা নিয়মিত তার দেখাশোনা করেন। চোখে ভালো দেখলেও কানে কম শোনেন তিনি। শত বছরের পুরোনো অনেক স্মৃতিও এখন আর স্পষ্টভাবে মনে করতে পারেন না।

নাতি শিফকুল ইসলাম বলেন, ভোটার আইডি কার্ডে দাদার বয়স ১২৩ বছর উল্লেখ থাকলেও প্রকৃত বয়স আরও বেশি বলে তারা মনে করেন। তার ভাষ্য, দাদা কখনো বিলাসিতা পছন্দ করেননি এবং সবসময় সৎ ও সাধারণ জীবনযাপন করেছেন।

মেয়ে আলিমা বেগম জানান, পাঁচ বছর বয়সে তিনি মাকে হারান এবং বাবার কাছেই বড় হয়েছেন। বাবাকে কখনো কারও প্রতি অন্যায় করতে দেখেননি। বর্তমানে ভাইয়ের ছেলেদের কাছেই তার বাবা থাকেন। সুযোগ পেলেই তিনি বাবাকে দেখতে যান এবং পছন্দের খাবার নিয়ে যান। তার দাবি, এত বয়সেও বাবা চশমা ছাড়াই কোরআন শরীফ পড়েন।

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিমদা আফেরাজ জানান, আব্বাস প্রামাণিক উপজেলার একজন প্রবীণ বাসিন্দা। বয়সের কারণে তার চলাফেরা সীমিত হয়ে পড়েছে। তার চলাচলের সুবিধার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়ির সামনে সিঁড়ি নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি খুবিজপুর প্রবীণ সেবা কেন্দ্র তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন সময় তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হচ্ছে।

সন্ধানী বার্তা/ডিএইচ/এমএসআইপি 


সম্পর্কিত খবর