দেশজুড়ে

হাতিরঝিলের আদলে ধামুরা আর্চ সেতু, মুগ্ধ দর্শনার্থীরা

বরিশালের উজিরপুরে ধামুরা খালের ওপর নির্মিত দৃষ্টিনন্দন আর্চ সেতু এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, হয়ে উঠেছে স্থানীয়দের নতুন বিনোদন ও দর্শনীয় স্থান। দুই পাশে সবুজের সমারোহ আর মাঝখানে স্বচ্ছ পানির খাল—তার ওপর ধনুকের মতো বাঁক নেওয়া সেতুটির নান্দনিকতা সহজেই আকৃষ্ট করছে দর্শনার্থীদের।

প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৫৫ দশমিক ০৬ মিটার দীর্ঘ আরসিসি আর্চ সেতুটি দেখতে প্রতিদিন বিকেলে স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ ছুটে আসছেন। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে এসে সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে খালের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন, তুলছেন ছবি। ফলে সেতুটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন এক দর্শনার্থী আকর্ষণ।

স্থানীয়দের অনেকেই সেতুটির নকশার সঙ্গে রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকার সেতুর তুলনা করছেন। তাদের মতে, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি এমন নান্দনিক অবকাঠামো একটি এলাকার সৌন্দর্য ও পর্যটন সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দিতে পারে।

বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান জানান, গৌরনদী ও উজিরপুরে দুটি নান্দনিক আর্চ ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। আধুনিক প্রকৌশল নকশা, স্থায়িত্ব ও দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যশৈলীর সমন্বয়ে এগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী এসব সেতু দেখতে আসছেন।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ধামুরা খালের ওপর নির্মিত সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ৯ কোটি ৯৪ লাখ ২৩ হাজার ৫৭৩ টাকা। ২০২৩ সালের ৪ মে নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ২০২৬ সালের ২৮ এপ্রিল শেষ হয়। এলজিইডির তত্ত্বাবধানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতুটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করে।

সেতুটি চালু হওয়ায় সানুহার-ধামুরা-জল্লা-সাতলা সড়কে যোগাযোগব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এসেছে। খাল পারাপারে আগের দুর্ভোগ কমেছে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য পরিবহন ও মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ায় স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গতি এসেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পুরোনো সেতু ভেঙে যাওয়ার পর সাতলা-বরিশাল সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হতো। ধামুরা খাল পারাপার ছিল নিত্যদিনের ভোগান্তির কারণ। নতুন সেতু নির্মাণের ফলে সেই দুর্ভোগ অনেকটাই দূর হয়েছে।

তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সেতুর আশপাশে পরিকল্পিত সৌন্দর্যবর্ধন, আলোকসজ্জা, বসার স্থান ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। এসব ব্যবস্থা করা গেলে ধামুরা আর্চ সেতুটি যোগাযোগ অবকাঠামোর পাশাপাশি উজিরপুরের অন্যতম দর্শনীয় স্থান হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

সন্ধানী বার্তা/ডিএইচ/এমএসআইপি 


সম্পর্কিত খবর