দেশজুড়ে

দুই শতকের ইতিহাস বুকে নিয়ে ধুঁকছে তিতাসপাড়ের মঠ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌর শহরের তিতাস নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক মঠটি সংরক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যাচ্ছে। জমিদারি আমলের স্মারক হিসেবে পরিচিত এ স্থাপনাটি রক্ষায় দ্রুত সরকারি উদ্যোগ ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় ইতিহাস থেকে জানা যায়, প্রায় দুই শতক আগে নবীনগরের জমিদার সীতারাম পোদ্দারের মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতি ধরে রাখতে তাঁর ছেলে গোপীনাথ চৌধুরীর স্ত্রী রাধারানী রায় চৌধুরানী মঠটি নির্মাণ করেন। নবীনগর মৌজার সাবেক সেটেলমেন্টের ১ নম্বর খতিয়ানের ২৬৬১ দাগের ০.০২ একর জমির ওপর এটি নির্মিত হয়।

তৎকালীন সময়ে সিমেন্টের প্রচলন না থাকায় ইট ও বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি চুনের মিশ্রণ দিয়ে মঠটি নির্মাণ করা হয়েছিল। তিতাস নদীর তীরে স্থাপনাটি নির্মাণে প্রায় তিন বছর সময় লেগেছিল বলে স্থানীয় ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে। মঠটির উচ্চতা প্রায় ২০০ ফুট এবং বেড় প্রায় ৯০ ফুট বলে জানা যায়।

১৯৫০ সালের একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মঠটির চূড়ার কিছু অংশ ভেঙে পড়ে। এ ছাড়া ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় কামানের গোলার আঘাতে চূড়া ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা স্থানীয়দের মধ্যে প্রচলিত থাকলেও এর পক্ষে নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

দেশভাগের পর জমিদার পরিবারের বংশধররা ভারতে চলে গেলে মঠটির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৭ সালের আগে মঠটির ভেতরে কামিনী বাবু নামের এক দর্জি কাজ করতেন। পরে রাধারানী রায় চৌধুরানীর পৌত্র গোপাল চন্দ্র রায় চৌধুরী মঠের জায়গাটি সালাম মেম্বারের কাছে বিক্রি করেন।

২০১১ সালের আগস্টে নবীনগর পৌরসভার উদ্যোগে মঠটির আংশিক সংস্কার করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ পরিকল্পনা না থাকায় পরবর্তী সময়ে আবারও স্থাপনাটিতে ক্ষয়ের চিহ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, এ ধরনের প্রাচীন স্থাপনা হারিয়ে গেলে শুধু একটি স্থাপত্য নিদর্শনই বিলীন হবে না; এর সঙ্গে হারিয়ে যাবে নবীনগরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। তাই মঠটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব নির্ধারণ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংরক্ষণ, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সন্ধানী বার্তা/এএএন/এমএসআইপি 


সম্পর্কিত খবর