দেশজুড়ে

পাহাড়ের গোপন পথে অস্ত্র-মাদকের চালান, উদ্বেগ কেলিশহর-করলডেঙ্গায়

চট্টগ্রামের পটিয়া ও বোয়ালখালীর সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় দুর্গম পথকে ঘিরে অস্ত্র ও মাদক কারবারিদের চলাচলের অভিযোগ উঠেছে। পাহাড়, বাগান ও ঘন জঙ্গলে ঘেরা এসব নির্জন পথ অপরাধীদের আত্মগোপন ও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে কেলিশহর ও করলডেঙ্গা এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি কেলিশহরের প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। গত ২৪ জুলাই চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালিয়ে দুটি একনলা বন্দুক ও দুটি দেশীয় এলজিসহ বিভিন্ন অস্ত্র উদ্ধার করে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইন্নারপাড়া ও ছাতিভাঙ্গা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয়টি কিরিচ, পাঁচটি রামদা, একটি দামাদা, লোহা কাটার যন্ত্রসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এসব অস্ত্র অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের জন্য মজুদ করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে কেলিশহর ইউনিয়নের পূর্বাঞ্চলের পওলি ছড়া পাহাড়ি এলাকা থেকে তিন বাগান মালিকসহ সাতজনকে অস্ত্রের মুখে অপহরণের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ ছিল, ওই এলাকায় পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের আনাগোনা বেড়েছে।

পাশাপাশি পটিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানও অব্যাহত রয়েছে। গত আগস্টে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে পটিয়ার কাছে একটি চক্রের কাছ থেকে এক লাখ ইয়াবা উদ্ধারের কথা জানায় র‌্যাব। তাদের দাবি, ইয়াবাগুলো কক্সবাজারের রামু থেকে চট্টগ্রামের দিকে নেওয়া হচ্ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে পটিয়ার কেলিশহর ও হাইদগাঁও এবং বোয়ালখালীর করলডেঙ্গা ও আমুচিয়ার পাহাড়ি এলাকাকে মাদক পরিবহনের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

এ পরিস্থিতিতে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) কেলিশহর ইউনিয়নের মৌলভীবাজার এলাকার একটি বিদ্যালয় মাঠে মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে একটি র‌্যালিও বের করা হয়। এতে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, সামাজিক প্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

সমাবেশে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন, পটিয়ায় মাদকের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে। মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কেলিশহরসহ পুরো পটিয়ায় পুলিশের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বোয়ালখালী থানার ওসি মোজাফফর হোসেন বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে কোনো ধরনের সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না। মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

সমাবেশে বক্তারা মাদকের পাশাপাশি তরুণদের মধ্যে অনলাইন জুয়ার আসক্তি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান দিয়ে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

স্থানীয়রা বলছেন, পাহাড়, বাগান ও ঝোপঝাড়ের কারণে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে অপরাধীদের চলাচল শনাক্ত করা কঠিন। তাই নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও যৌথ অভিযান বাড়ানোর পাশাপাশি মাদকের সম্ভাব্য সরবরাহপথ চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় একটি স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনেরও দাবি উঠেছে।

সন্ধানী বার্তা/এসকে/এমএসআইপি 


সম্পর্কিত খবর