দেশজুড়ে

যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়ক: ছয় বছরে কাজ আড়াই শতাংশ

যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার প্রকল্পে ছয় বছর পার হলেও নির্মাণকাজে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র তিন মাস বাকি থাকলেও যশোর অংশে কাজ হয়েছে প্রায় আড়াই শতাংশ এবং ঝিনাইদহ অংশে ১১ শতাংশ। এর বড় অংশই জমি অধিগ্রহণের কাজে সীমাবদ্ধ রয়েছে।

৪৭ দশমিক ৪৮ কিলোমিটার মহাসড়কটি চারটি প্রধান লেন ও দুটি সার্ভিস লেনসহ মোট ছয় লেনে উন্নীত করার জন্য ২০২০ সালের ২৪ নভেম্বর প্রকল্পটি অনুমোদন দেয় একনেক। শুরুতে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪ হাজার ১৮৭ কোটি টাকা। পরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬২৬ কোটি টাকায়। অর্থাৎ ব্যয় বেড়েছে ২ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা বা প্রায় ৫৮ শতাংশ।

জমি অধিগ্রহণে বিলম্ব

২০২১ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর করা হয়। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অবশিষ্ট সময়ে প্রকল্পের ৮৭ শতাংশ কাজ শেষ করা বাস্তবসম্মত নয়। নতুন করে আরও তিন থেকে চার বছর মেয়াদ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান, তিনটি প্যাকেজের মধ্যে প্রথমটির অগ্রগতি প্রায় ১১ শতাংশ। দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্যাকেজে অগ্রগতি মাত্র আড়াই শতাংশ। জমি অধিগ্রহণের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা অপসারণ এবং বিদ্যুৎ ও অন্যান্য ইউটিলিটি স্থানান্তরের কারণে নির্মাণকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ডেপুটি প্রকল্প ম্যানেজার প্রকৌশলী আল মামুন মিয়া জানান, গত ১৭ সেপ্টেম্বর যশোরের জেলা প্রশাসক ৫৩ দশমিক ৮৯ একর জমি হস্তান্তর করেছেন। আরও প্রায় ৬ একর জমি অধিগ্রহণ বাকি রয়েছে। বৈদ্যুতিক লাইন, স্থাপনা, গাছ ও অন্যান্য ইউটিলিটি স্থানান্তরের সমস্যা সমাধান হলে কাজের গতি বাড়বে।

ভোগান্তিতে মহাসড়কের যাত্রীরা

সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে জমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। কোথাও সড়কের অংশবিশেষ খুঁড়ে রাখা হয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কোনো কোনো অংশে ইটের সোলিং করা হয়েছে। ফলে বিদ্যমান সড়ক দিয়েই ভারী যানবাহন চলাচল করছে। এতে বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ ও উঁচুনিচু অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আবদুল মোনায়েম লিমিটেডের প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মঞ্জুর হাসান বলেন, ২২ সেপ্টেম্বর তারা জমির কাগজপত্র বুঝে পেয়েছেন। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। দখল বুঝে পেলে নির্মাণকাজে গতি আসবে।

প্রকল্পের তিনটি লটের প্রকল্প ব্যবস্থাপক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, জমি অধিগ্রহণে দীর্ঘ সময় লেগে যাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। বর্তমান সড়ক চালু রেখে সেটিকে ছয় লেনে উন্নীত করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। বর্ষা মৌসুম শেষ হলে পুরোদমে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। এজন্য প্রকল্পের মেয়াদ আরও চার বছর বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে।

প্রকল্প পরিচালক সাদিকুল ইসলাম বলেন, জমি অধিগ্রহণের জটিলতার কারণেই প্রকল্পের অগ্রগতি কম হয়েছে। এ পর্যন্ত ৮৫ শতাংশ জমি পাওয়া গেছে। এখন থেকে কাজ দৃশ্যমান হওয়ার আশা করছেন তারা। তবে সময় বাড়লে ব্যয়ও বাড়বে—এমনটি নিশ্চিত করে বলা যায় না বলে জানান তিনি।

সন্ধানী বার্তা/ডিএইচ/এমএসআইপি 


সম্পর্কিত খবর