জাতীয়

ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন, আজ পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারি চাকরিজীবীদের নবম জাতীয় বেতন কাঠামোর (পে স্কেল) প্রজ্ঞাপন আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জারি হতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্র জানিয়েছে, দুপুরের পর নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হতে পারে।

এর আগে গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় নবম জাতীয় পে স্কেল অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে।

জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী, বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল থাকছে। ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। আর প্রথম গ্রেডের নির্ধারিত মূল বেতন হবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

নতুন কাঠামোয় প্রথম থেকে ১১তম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতন দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২০তম গ্রেডে মূল বেতন বাড়বে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত। পাশাপাশি সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাত কমিয়ে ১:১.৭৮ করা হয়েছে।

নতুন পে স্কেলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে। সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের জন্য মোবাইল ভাতার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

পে স্কেলের প্রভাব পড়বে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশনেও। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিট পেনশনপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্তরে পেনশন বাড়ানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ৯ হাজার টাকা বা তার কম নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন ১০০ শতাংশ, ৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৭৫ শতাংশ, ২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ৫৫ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত রয়েছে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সামরিক ও অসামরিক ক্ষেত্রে ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ ব্যবস্থা ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘাটতি ও বড় অঙ্কের আর্থিক সংশ্লেষের কারণে এটি একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না।

নতুন পে স্কেলও একবারে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে না। ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ধাপে ধাপে এটি কার্যকর করা হবে। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে মূল বেতন মোট তিন ধাপে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত রয়েছে। বিভিন্ন ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে একযোগে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

নতুন কাঠামোয় স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে দশম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সন্ধানী বার্তা/এম/এসআইপি


সম্পর্কিত খবর