একদিকে সড়ক অবরোধ, অন্যদিকে টোলের নামে টাকা আদায়ের অভিযোগ—বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ত্রিশালের বালিপাড়া ব্রিজ ঘিরে বাড়ছিল উত্তেজনা। তখনই আসে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ। তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর হস্তক্ষেপে বন্ধ হয়ে যায় ব্রিজের অবৈধ টোল আদায়। তাঁর নির্দেশনার পর অবরোধ তুলে নেন বিক্ষুব্ধরা। থামে যানজট, স্বস্তি ফেরে চালক-যাত্রীদের মধ্যে।
- অভিযোগ থেকে অ্যাকশন, অ্যাকশন থেকে সমাধান
- প্রতিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে কাটল পরিবহন-ভোগান্তি
- জনস্বার্থে মিলল দ্রুত প্রতিক্রিয়ার নজির
ঘটনার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক, জনভোগান্তির একটি অভিযোগ প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে থাকেনি। অভিযোগ ও বিক্ষোভের খবর সামনে আসার পর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন ঘটে। স্থানীয়দের কাছে এ কারণেই তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপটি আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে।
ক্ষোভ জমছিল, সড়কে নামলেন চালকেরা
ত্রিশাল-নান্দাইল সড়কের গুরুত্বপূর্ণ এই ব্রিজে টোল আদায় শুরু হওয়ার পর থেকেই ক্ষোভ তৈরি হয় স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহন চালকদের মধ্যে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সেই ক্ষোভ রূপ নেয় সড়ক অবরোধে। নান্দাইল-ত্রিশাল সড়কে অবস্থান নিয়ে টোল বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন তাঁরা।
অবরোধে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। আটকে পড়ে সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন। এমন পরিস্থিতিতে বিষয়টি দ্রুত তথ্য প্রতিমন্ত্রীর নজরে আসে। তাঁর নির্দেশনায় ব্রিজের টোল আদায় পুরোপুরি স্থগিত করা হয়। ঘোষণার পরই অবরোধ প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা।
‘অনুমতিই ছিল না’—সওজের বক্তব্য
বিষয়টির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দিকও উঠে এসেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগের বক্তব্যে। সওজ কিশোরগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদ বলেন, বালিপাড়া ব্রিজে কোনো ধরনের টোল আদায়ের অনুমতি নেই। যারা অর্থ আদায় করছিল, তারা অবৈধভাবে এ কাজ করছিল। বিষয়টি খতিয়ে দেখে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, টোল আদায়ের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
সিদ্ধান্তে মিলল সরাসরি সুফল
একজন পরিবহন চালকের ভাষায়, টোলের নামে জোর করে টাকা নেওয়া হচ্ছিল। সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে সেই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাওয়ায় তাঁরা স্বস্তি পেয়েছেন। স্থানীয়দের মন্তব্যেও উঠে এসেছে অভিন্ন কথা।
তাঁদের মতে, অভিযোগ ওঠার পর দীর্ঘসূত্রতা না করে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। এতে করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির অবসান ঘটিয়েছেন। তাঁরা প্রতিমন্ত্রীকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন।
সরকারের ‘জনবান্ধব’ নীতির বার্তাকে করেছে স্পষ্ট
বালিপাড়া ব্রিজের ঘটনাটি এখন শুধু অবৈধ টোল বন্ধের ঘটনা নয়। জনস্বার্থের একটি অভিযোগের বিষয়ে সরকারের দায়িত্বশীল একজন প্রতিমন্ত্রী, জনপ্রতিনিধির দ্রুত হস্তক্ষেপ কীভাবে তাৎক্ষণিক সুফল আনতে পারে, তারও একটি বড় উদাহরণ হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ দ্রুত আমলে নিয়ে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়ার এই পদক্ষেপ সরকারের জনবান্ধব নীতির বার্তাকে আরও স্পষ্ট করেছে। এতে করে সরকারের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল হয়েছে।একই সঙ্গে স্থানীয়দের প্রত্যাশা—অবৈধ টোলের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নিয়ে এই উদ্যোগকে পূর্ণতা দেওয়া হবে।
এমএএএমকে