ভালোবাসার সম্পর্কে সবকিছু কি সমান সমান হতে হবে? কে কতবার ফোন করলেন, কে কতবার দেখা করার পরিকল্পনা করলেন—এভাবে ভালোবাসার হিসাব মেলানো সম্ভব নয়। কেউ হয়তো কথায় যত্ন প্রকাশ করেন, কেউ আবার কাজের মাধ্যমে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সম্পর্কের দায়িত্ব কি দুজনেই নিচ্ছেন?
সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার শুরুটা অনেক সময় বড় কোনো ঝগড়া কিংবা বিচ্ছেদের ঘোষণা দিয়ে হয় না। বরং নীরবে তৈরি হয় দূরত্ব। একজন নিয়মিত খোঁজ নেন, পরিকল্পনা করেন কিংবা ঝগড়ার পর সম্পর্ক ঠিক করার চেষ্টা করেন; অন্যজন কেবল সাড়া দেন। বাইরে থেকে সম্পর্ক স্বাভাবিক মনে হলেও একসময় একজনের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে—‘আমি চেষ্টা করা বন্ধ করলে এই সম্পর্ক কি টিকে থাকবে?’
সম্পর্কবিষয়ক গবেষণায় ‘পারসিভড পার্টনার রেসপনসিভনেস’ বা সঙ্গীকে কতটা সাড়া দেওয়া হয়, সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। সঙ্গী আপনার অনুভূতি ও প্রয়োজন বুঝছেন কি না, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আপনাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন কি না এবং প্রয়োজনের সময় পাশে থাকছেন কি না—এসব বিষয় সম্পর্কের মানের সঙ্গে যুক্ত।
সম্পর্ক একতরফা হওয়ার ৫ লক্ষণ
১. সব সময় আপনিই যোগাযোগ শুরু করছেন
আপনিই কি সব সময় প্রথমে মেসেজ বা ফোন করেন? দেখা করার পরিকল্পনা, কোথাও ঘুরতে যাওয়া কিংবা একসঙ্গে সময় কাটানোর উদ্যোগও কি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আপনার? দীর্ঘদিন ধরে এমনটি চললে সম্পর্কের পারস্পরিকতা নিয়ে ভাবার সুযোগ আছে।
২. ঝগড়ার পর আপনিই সব ঠিক করেন
প্রতিবার মনোমালিন্যের পর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার দায়িত্ব কি আপনাকেই নিতে হয়? এমনকি নিজের ভুল না থাকলেও কি আপনিই ক্ষমা চান? সম্পর্কে মতবিরোধ থাকতেই পারে। তবে দ্বন্দ্ব মেটাতে দুজনেরই আগ্রহ ও অংশগ্রহণ থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
৩. আপনি চুপ করলে যোগাযোগও বন্ধ হয়ে যায়
আপনি নিজে থেকে কথা বলা বন্ধ করলেই যদি অপর পক্ষের কাছ থেকেও কোনো যোগাযোগ না আসে, তাহলে বিষয়টি খেয়াল করার মতো। কথোপকথনে সব সময় তাঁর কথা গুরুত্ব পায়, কিন্তু আপনার দিন কেমন গেল বা আপনি কী অনুভব করছেন—এসব জানতে আগ্রহ দেখা যায় না, সেটিও একতরফা যোগাযোগের লক্ষণ হতে পারে।
৪. নিয়মিত আপনাকেই ছাড় দিতে হচ্ছে
সময়, পরিকল্পনা, পছন্দ কিংবা ব্যক্তিগত প্রয়োজন—প্রায় সব ক্ষেত্রেই কি আপনাকেই মানিয়ে নিতে হচ্ছে? মাঝে মাঝে ছাড় দেওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু সব সিদ্ধান্তে একজনই ছাড় দিতে থাকলে সম্পর্কের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
৫. সম্পর্কে থেকেও একা লাগে
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণগুলোর একটি হলো আবেগগত একাকিত্ব। প্রতিদিন কথা হচ্ছে, দেখা হচ্ছে, এমনকি একই ছাদের নিচেও থাকা হচ্ছে; কিন্তু তবু মনে হচ্ছে নিজের কথা বলার বা বোঝার মতো কেউ নেই। শারীরিকভাবে একসঙ্গে থাকা আর আবেগগতভাবে সংযুক্ত থাকা এক বিষয় নয়।
তাহলে কি সম্পর্ক শেষ?
এসব লক্ষণ দেখা গেলেই সম্পর্ক শেষ হয়ে গেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কারণ নেই। একজন বেশি যোগাযোগ করেন আর অন্যজন তুলনামূলক কম—এতেই সম্পর্ক একতরফা হয়ে যায় না। বরং কয়েক মাস ধরে একই ধরনের আচরণ বা প্যাটার্ন চলছে কি না, সেটি দেখা জরুরি।
আপনার প্রয়োজন ও অনুভূতিগুলো কি নিয়মিত উপেক্ষিত হচ্ছে? সম্পর্কের বেশির ভাগ উদ্যোগ কি আপনাকেই নিতে হচ্ছে? যদি উত্তর বারবার ‘হ্যাঁ’ হয়, তাহলে সঙ্গীর সঙ্গে বিষয়গুলো নিয়ে খোলামেলা কথা বলা প্রয়োজন।
ভালোবাসা সমান হিসাব নয়, পারস্পরিক উপস্থিতি
সম্পর্কে প্রতিদিন দুজনের সমান পরিমাণ সময় বা শক্তি দেওয়া সম্ভব নয়। কারও ব্যস্ততা থাকতে পারে, কারও কঠিন সময় যেতে পারে। তাই ভালোবাসাকে ফিফটি-ফিফটি হিসাবের খাতায় মাপা যায় না।
বরং গুরুত্বপূর্ণ হলো—দুজনেই কি প্রয়োজনের সময়ে একে অপরের পাশে থাকছেন? একজনের খারাপ সময়ে অন্যজন কি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়াচ্ছেন? সম্পর্কের দায়িত্ব কি দুজনেই ভাগ করে নিচ্ছেন?
ভালোবাসায় সবকিছু সমান না হলেও পারস্পরিকতা ও ভারসাম্য থাকা জরুরি। কারণ দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক সাধারণত একজনের একার প্রচেষ্টায় টিকে থাকে না।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
সন্ধানী বার্তা/এসএ