জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে সিরিয়ার বেশ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার দেশটির সরকার ডিজেলের দাম সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ এবং পেট্রলের দাম ২৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পর ক্ষোভে রাস্তায় নেমে আসেন সাধারণ মানুষ। বিক্ষোভকারীরা একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কও কয়েক ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন।
হামা, খান শেইখুন ও মারাত আল-নুমান শহরে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ করছেন। আলেপ্পো-তুরস্ক মহাসড়কেও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে।
সিরিয়া সরকারের দাবি, বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি সংগ্রহের ব্যয় হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। পাশাপাশি বানিয়াস শোধনাগার সংস্কারের বিষয়টিও দাম বাড়ানোর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংস্কার শেষে শোধনাগারটির দৈনিক উৎপাদনক্ষমতা ৮০ হাজার ব্যারেল থেকে বেড়ে ১ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল হবে বলে জানিয়েছে সরকার।
দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-বশির জানিয়েছেন, বর্তমানে সিরিয়ায় প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ২ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদিত হচ্ছে। অথচ অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার ব্যারেল প্রয়োজন। ফলে ঘাটতি পূরণে আমদানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে দেশটিকে।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা জানিয়েছে, বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি অনুযায়ী জ্বালানির দাম ভবিষ্যতেও সমন্বয় করা হতে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে তেল শোধন ও মজুতের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
দীর্ঘ ১৪ বছরের যুদ্ধের পর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে সিরিয়া। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। ফলে সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
সন্ধানী বার্তা/এসএ