ফ্রিজে খাবার রাখলেই যে তা দীর্ঘদিন নিরাপদ থাকবে—এমনটা নয়। বরং কোন খাবার কত দিন সংরক্ষণ করা যাবে, তা জানা না থাকলে ফ্রিজে রাখা খাবার থেকেও তৈরি হতে পারে খাদ্যজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার কম তাপমাত্রায় ফ্রিজ রাখা এবং খাবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খেয়ে ফেলা গুরুত্বপূর্ণ।
ভাত, তরকারি, মাংস বা অন্য রান্না করা খাবারের ক্ষেত্রে সাধারণ নিয়ম হলো—৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে খেয়ে ফেলা। বড় পরিমাণ গরম খাবার একসঙ্গে না রেখে অল্প অল্প করে অগভীর পাত্রে ভাগ করে দ্রুত ঠান্ডা করে ফ্রিজে রাখা ভালো। সুপ ও স্টু: ৩-৪ দিন, রান্না করা মাংস: ৩-৪ দিন, রান্না করা মুরগি: ৩-৪ দিন, রান্না করা মাছ: ৩-৪ দিন।
কাঁচা খাবারের ক্ষেত্রে সময় আরও কম। কাঁচা মুরগি: ১-২ দিন, কিমা বা গ্রাউন্ড মাংস: ১-২ দিন, কাঁচা মাছ ও সামুদ্রিক খাবার: ১-২ দিন, গরু, খাসি বা অন্যান্য লাল মাংসের স্টেক/চপ/রোস্ট: ৩-৫ দিন।
তাই বাজার থেকে কাঁচা মাংস বা মাছ এনে কয়েক দিন ফ্রিজে ফেলে রাখার বদলে দ্রুত রান্না করা অথবা দীর্ঘদিন রাখতে হলে ফ্রিজারে সংরক্ষণ করা নিরাপদ।
কাঁচা খোসাসহ ডিম সাধারণত ফ্রিজে ৩-৫ সপ্তাহ রাখা যায়। তবে সেদ্ধ ডিমের ক্ষেত্রে সময় অনেক কম-এক সপ্তাহের মধ্যে খেয়ে ফেলা উচিত। রান্না করা ডিমের পদ ৩-৪ দিনের মধ্যে শেষ করা ভালো।
খোলা হট ডগ বা অনুরূপ খাবার সাধারণত এক সপ্তাহ পর্যন্ত, আর খোলা লাঞ্চ মিট ৩-৫ দিন ফ্রিজে রাখা যায়। তবে প্যাকেটের সংরক্ষণ নির্দেশনা থাকলে সেটিই আগে অনুসরণ করতে হবে।
রান্না করা বা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাযুক্ত খাবার ঘরের তাপমাত্রায় দুই ঘণ্টার বেশি রাখা উচিত নয়। তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে সময়টি কমে এক ঘণ্টা হয়। এরপর খাবার ফ্রিজে রাখলেও জীবাণুর ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয় না।
আর ফ্রিজের তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচে এবং ফ্রিজারের তাপমাত্রা মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচে রাখা উচিত।
খাবার দেখতে বা গন্ধে স্বাভাবিক মনে হলেও তাতে ক্ষতিকর জীবাণু থাকতে পারে। তাই সন্দেহ হলে ‘খেয়ে দেখে’ পরীক্ষা করা উচিত নয়। নিরাপত্তা নিয়ে সন্দেহ থাকলে খাবারটি ফেলে দেওয়াই ভালো।
সহজ নিয়ম: রান্না করা খাবার ৩-৪ দিনের মধ্যে, কাঁচা মাংস-মাছ ১-২ দিনের মধ্যে, আর ফ্রিজে রাখা খাবার সবসময় ঢাকনাযুক্ত পাত্রে সংরক্ষণ করুন। এতে খাবার যেমন ভালো থাকবে, তেমনি খাদ্যজনিত অসুস্থতার ঝুঁকিও কমবে।
তথ্যসূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ ও যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন
সন্ধানী বার্তা/এসএ