তথ্যপ্রযুক্তি

৪৮ বছর পর নতুন শক্তিব্যবস্থায় সচল নাসার ভয়েজার-২

মহাকাশে প্রায় ৫০ বছর ধরে ছুটে চলা নাসার ভয়েজার-২ অবসরের পথে থাকলেও নতুন এক শক্তিব্যবস্থার মাধ্যমে আরও অন্তত এক বছর সচল রাখার উদ্যোগ সফল হয়েছে। ‘বিগ ব্যাং’ নামে একটি বিশেষ প্রকৌশলগত পরিবর্তনের মাধ্যমে মহাকাশযানটির বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সাশ্রয়ী সমাধান এনেছে নাসা। ফলে এর বৈজ্ঞানিক যন্ত্রগুলো আরও কিছুদিন মহাকাশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে।

১৯৭৭ সালের ২০ আগস্ট উৎক্ষেপণ করা হয় ভয়েজার-২। মহাকাশযানটির ওজন প্রায় ৭২২ কেজি। সৌরজগতের বাইরের পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করাই ছিল এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এর বিদ্যুতের উৎস রেডিওআইসোটোপ থার্মোইলেকট্রিক জেনারেটর (আরটিজি)। এই ব্যবস্থায় প্লুটোনিয়ামের ক্ষয় থেকে উৎপন্ন তাপকে বিদ্যুতে রূপান্তর করা হয়।

তবে সময়ের সঙ্গে প্লুটোনিয়াম ক্ষয় হওয়ায় ভয়েজার-২ প্রতিবছর প্রায় ৪ ওয়াট করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা হারাচ্ছে। ১৯৭৭ সালে এতে ১০টি বৈজ্ঞানিক যন্ত্র সচল থাকলেও শক্তি সাশ্রয়ের জন্য ধাপে ধাপে কয়েকটি যন্ত্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মাত্র তিনটি বৈজ্ঞানিক যন্ত্র কার্যকর রয়েছে।

২০২৬ সালের শেষ দিকে বিদ্যুৎ-সংকটের কারণে এসব যন্ত্রের আরেকটি বন্ধ করে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে নাসার প্রকৌশলীরা বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী কিছু ব্যবস্থা বন্ধ করে কম বিদ্যুৎ খরচের বিকল্প ব্যবস্থা চালু করেন। একই সঙ্গে মহাকাশযানটি যাতে অতিরিক্ত ঠান্ডা হয়ে কার্যক্ষমতা হারিয়ে না ফেলে, সেটিও নিশ্চিত করা হয়েছে।

নাসার এই পরিবর্তনের ফলে ভয়েজার-২-এর অবশিষ্ট তিনটি বৈজ্ঞানিক যন্ত্র আরও অন্তত এক বছর কাজ চালিয়ে যেতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভয়েজার-২ তার যাত্রার শুরুতে সৌরজগতের বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুন পর্যবেক্ষণ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাঠিয়েছে। ২০১৮ সালে এটি সৌরজগতের সীমানা পেরিয়ে আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাকাশে প্রবেশ করে। এরপর থেকে সূর্যের প্রভাববলয়ের বাইরে থাকা প্লাজমার ঘনত্ব ও তাপমাত্রাসহ বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক তথ্য পৃথিবীতে পাঠিয়ে আসছে।

একই মিশনের অংশ হিসেবে ভয়েজার-১-ও মহাকাশে রয়েছে। তবে ভয়েজার-২-এর বিশেষত্ব হলো, ইউরেনাস ও নেপচুনকে কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করা একমাত্র মহাকাশযান এটি।

সূত্র: এনগ্যাজেট, স্পেস ডটকম

সন্ধানী বার্তা/এসএ


সম্পর্কিত খবর