আন্তর্জাতিক

পর্তুগালে গোল্ডেন ভিসার আবেদন নিষ্পত্তিতে নতুন উদ্যোগ

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য গোল্ডেন ভিসার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে পর্তুগাল সরকার। ২০২৭ সালে এ কর্মসূচির আওতায় জমা পড়া আবাসন অনুমতিসংক্রান্ত আবেদন নিয়মিতকরণ ও প্রক্রিয়াকরণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম দ্য পর্তুগাল নিউজ-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। দেশটির ২০২৭ সালের প্রস্তাবিত রাষ্ট্রীয় বাজেট নিয়ে সংসদীয় আলোচনায় প্রেসিডেন্সিমন্ত্রী আন্তোনিও লেইতাও আমারো বিষয়টি তুলে ধরেন।

আবেদন নিষ্পত্তি হবে সরকারের অগ্রাধিকার
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মন্ত্রী স্বীকার করেছেন, আগামী বছর গোল্ডেন ভিসার আবেদনগুলো নিয়মিতকরণ ও নিষ্পত্তি করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে প্রক্রিয়াধীন আবেদনগুলোর জট কমানোর পাশাপাশি অভিবাসনসেবা আরও কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

গোল্ডেন ভিসার আনুষ্ঠানিক নাম ‘রেসিডেন্স পারমিটস ফর ইনভেস্টমেন্ট অ্যাক্টিভিটি’ (এআরআই)। এসব আবেদন প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে পর্তুগালের অভিবাসন সংস্থা এআইএমএ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব পেয়ে থাকে। তথ্যমতে, প্রতিটি আবাসন অনুমতিপত্রের বিপরীতে প্রায় ৬ হাজার ইউরো পর্যন্ত ফি আদায় হতে পারে। বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে আদায় করা ফি দিয়ে অভিবাসন সংস্থার কার্যক্রম পরিচালনার অর্থায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি সেবার মান উন্নত করতে চায় সরকার।

যেভাবে পাওয়া যায় গোল্ডেন ভিসা
বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্যে ২০১২ সালে গোল্ডেন ভিসা কর্মসূচি চালু করে পর্তুগাল। এ কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত বিনিয়োগ ও আইনি শর্ত পূরণকারী বিদেশি বিনিয়োগকারী এবং তাঁদের যোগ্য পরিবারের সদস্যরা দেশটিতে বসবাসের অনুমতি পেতে পারেন।

তবে ২০২৩ সালে আইন পরিবর্তনের পর নতুন আবেদনকারীদের জন্য আবাসন বা সম্পত্তি কেনার মাধ্যমে গোল্ডেন ভিসা পাওয়ার সুযোগ বন্ধ করা হয়। বর্তমানে কয়েকটি বিকল্প বিনিয়োগের মাধ্যমে এ সুবিধা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এসব বিনিয়োগের মধ্যে রয়েছে যোগ্য বিনিয়োগ তহবিল, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, সাংস্কৃতিক প্রকল্প এবং নির্দিষ্ট ধরনের ব্যবসায়িক বিনিয়োগ।

আগের বিনিয়োগকারীদের জন্যও রয়েছে শর্ত
যাঁরা আগে থেকেই গোল্ডেন ভিসা পেয়েছেন, তাঁদের আবাসন অনুমতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শর্তগুলো মেনে চলতে হবে। এর মধ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারিত বিনিয়োগ বজায় রাখার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ২০২৭ সালে দীর্ঘদিন ধরে প্রক্রিয়াধীন থাকা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আবেদন নিষ্পত্তিতে অগ্রগতি আসতে পারে। এতে পর্তুগালের গোল্ডেন ভিসা কর্মসূচির আবেদন ব্যবস্থাপনায় গতি ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হবে। সূত্র: দ্য পর্তুগাল নিউজ

সন্ধানী বার্তা/এসএ/আরআইকে


সম্পর্কিত খবর