খেলা

লেঁসকে উড়িয়ে এক রাতে ১০ রেকর্ড কোমোর

ইউরোপীয় ফুটবলে নতুন বিস্ময়ের নাম এখন ইতালির ক্লাব কোমো। কোচ সেস্ক ফ্যাব্রেগাসের অধীনে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা দলটি চ্যাম্পিয়নস লিগে একের পর এক চমক দেখাচ্ছে। গতকাল রাতে ফরাসি ক্লাব লেঁসকে তাদের মাঠে ৯-১ গোলে বিধ্বস্ত করে বেশ কয়েকটি রেকর্ড গড়েছে কোমো। ইউরোপের শীর্ষ প্রতিযোগিতায় প্রতিপক্ষের মাঠে ৯ গোল করার নজির আগে ছিল না কোনো দলের।

চ্যাম্পিয়নস লিগে এবারই প্রথম অংশ নিচ্ছে কোমো। চার ম্যাচ শেষে তিন জয় ও এক হারে তাদের গোলসংখ্যা ১৯। বিপরীতে গোল হজম করেছে ৬টি। অর্থাৎ গোল ব্যবধান দাঁড়িয়েছে +১৩। এই সময়ে কোমোর চেয়ে বেশি গোল করেছে কেবল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। ফরাসি ক্লাবটির গোলসংখ্যা ২০ এবং গোল ব্যবধান +১৫।

চ্যাম্পিয়নস লিগে বড় জয়ের রেকর্ডে ভাগ
লেঁসের মাঠে ৯-১ গোলের জয় চ্যাম্পিয়নস লিগে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ডে কোমোকে ভাগ বসিয়েছে। এর আগে প্রতিযোগিতাটিতে ৮ গোলের ব্যবধানে জয়ের নজির ছিল লিভারপুল ও রিয়াল মাদ্রিদের।

২০০৭ সালে বেসিকতাসকে ৮-০ গোলে হারিয়েছিল লিভারপুল। ২০১৫ সালে মালমোর বিপক্ষে একই ব্যবধানে জয় পেয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। এবার ৯ গোলের ব্যবধানে জিতে সেই তালিকায় নতুন করে জায়গা করে নিল কোমো।

প্রতিপক্ষের মাঠে ৯ গোলের প্রথম নজির
চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে প্রতিপক্ষের মাঠে এক ম্যাচে ৯ গোল করার প্রথম রেকর্ড গড়েছে কোমো। এর আগে ইউরোপিয়ান কাপের ইতিহাসে প্রতিপক্ষের মাঠে ৯ বা তার বেশি গোল করার কয়েকটি নজির ছিল।

১৯৭১ সালে অলিম্পিয়াকোসের মাঠে ৯-০ গোলে জিতেছিল ফেইনুর্ড। এর আগে ১৯৬৯ সালে কেআর রিকজাভিকের মাঠে ১২-২ গোলে জয় পেয়েছিল ডাচ ক্লাবটি। ১৯৬৬ সালে হাকার মাঠে অ্যান্ডারলেখট জিতেছিল ১০-১ গোলে। ১৯৬৮ সালে রেইপাস লাহথির মাঠে স্পার্তাক ত্রনাভা জয় পেয়েছিল ৯-১ গোলে।

ইতালির প্রথম ক্লাব হিসেবে ৯ গোল
চ্যাম্পিয়নস লিগে এক ম্যাচে ৯ গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেছে কোমো। প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে ইতালির প্রথম ক্লাব হিসেবে এই মাইলফলক ছুঁয়েছে তারা। এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দিনামো জাগরেবকে ৯-২ গোলে হারিয়ে এক ম্যাচে ৯ গোল করেছিল বায়ার্ন মিউনিখ। এবার দ্বিতীয় দল হিসেবে সেই কীর্তি গড়ল কোমো।

হ্যাটট্রিক দুভিকাসের, গোল নিকো পাজেরও
লেঁসের বিপক্ষে কোমোর বড় জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন গ্রিক স্ট্রাইকার তাসোস দুভিকাস। ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছেন তিনি। চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে হ্যাটট্রিক করা তৃতীয় গ্রিক ফুটবলার হলেন দুভিকাস। কোমোর হয়ে গোল করেছেন নিকো পাজও।

প্রথম চার ম্যাচেই ১৯ গোল
ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় প্রথম চার ম্যাচে ১৯ গোল করার কৃতিত্বেও রেকর্ডের ভাগীদার হয়েছে কোমো। এর আগে ১৯৭৬ সালে কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্স ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় প্রথম চার ম্যাচে ১৯ গোল করেছিল। দীর্ঘ সময় পর সেই রেকর্ডে ভাগ বসাল ইতালির ক্লাবটি।

১০০ গোলে অবদান এমবাপ্পের
গত রাতের ইউরোপীয় ফুটবলে ব্যক্তিগত মাইলফলক ছুঁয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেও। চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের ১০২তম ম্যাচে ১০০ গোলে অবদান রাখার কীর্তি গড়েছেন তিনি। এর মধ্যে তাঁর গোল ৭৪টি, অ্যাসিস্ট ২৬টি। এই মাইলফলকে পৌঁছাতে এমবাপ্পের চেয়ে কম ম্যাচ খেলেছেন কেবল লিওনেল মেসি। আর্জেন্টাইন তারকা ১০১ ম্যাচেই ১০০ গোলে অবদান রেখেছিলেন।

রিয়ালের শেষ মুহূর্তের গোল, লিভারপুলের হতাশা
গত রাতের ম্যাচগুলোতে আরও কিছু উল্লেখযোগ্য রেকর্ড হয়েছে। চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রতিপক্ষের মাঠে ৯০ মিনিট বা তার পরে গোল করে জয় পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন ধারাবাহিকতা তৈরি করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির আগে এমনভাবে প্রতিপক্ষের মাঠে জয়ের নজির ছিল না তাদের। এরপর ২১ মাসে চারবার এমন জয় পেয়েছে স্প্যানিশ ক্লাবটি।

অন্যদিকে তুরস্কের ক্লাবগুলোর মাঠে ইউরোপিয়ান কাপ বা চ্যাম্পিয়নস লিগে এখনো জয়ের দেখা পায়নি লিভারপুল। ছয় ম্যাচের পাঁচটিতেই হেরেছে তারা, যার মধ্যে সর্বশেষ চার ম্যাচেও পরাজয় রয়েছে। একই দেশের ক্লাবগুলোর মাঠে টানা পাঁচ ম্যাচ হারের অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডও গড়েছে ইংলিশ ক্লাবটি।

স্লাভিয়া প্রাগের জয়হীন থাকার রেকর্ডে ভাগ
আর্সেনালের কাছে হেরে ইউরোপিয়ান কাপ ও চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে দীর্ঘতম জয়হীন থাকার রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছে স্লাভিয়া প্রাগ। ইউরোপের শীর্ষ প্রতিযোগিতায় টানা ২৩ ম্যাচে জয় পায়নি দলটি। এর আগে ১৯৮৯ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে এএইকে অ্যাথেন্স এবং ২০০৬ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে এফসিএসবি একই রেকর্ড গড়েছিল। এদিকে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের কোনো ক্লাবের বিপক্ষে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় এক ম্যাচে ৯ গোল হজম করার প্রথম নজিরও গড়েছে লেঁস।

লাইপজিগ-ম্যানচেস্টার সিটির ম্যাচে গোলের বন্যা
লাইপজিগ ও ম্যানচেস্টার সিটির মধ্যকার চ্যাম্পিয়নস লিগের সাত ম্যাচেও হয়েছে গোলের বন্যা। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে মোট গোল হয়েছে ৩৫টি। অর্থাৎ প্রতি ম্যাচে গড়ে পাঁচটি করে গোল। প্রতিযোগিতায় অন্তত পাঁচবার মুখোমুখি হওয়া দুই দলের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ গোলের গড়।

ফ্যাব্রেগাসের অধীনে কোমোর এমন দাপুটে পারফরম্যান্স ইউরোপীয় ফুটবলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রথমবার চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলতে নেমেই দলটি যেভাবে রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ছে, তাতে তাদের সামর্থ্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে ফুটবলপ্রেমীদের। সূত্র:এএফপি

সন্ধানী বার্তা/এসএ/টিসি


সম্পর্কিত খবর