হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে শয্যা ও চিকিৎসক সংকট। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ভর্তি ছিলেন ১১০ জন রোগী। নির্ধারিত শয্যা না পেয়ে অনেক রোগীকে হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এ অবস্থায় হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগের দাবি উঠেছে।
হাম, ডেঙ্গু ও ঋতু পরিবর্তনজনিত জ্বর, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ায় হাসপাতালটিতে চাপ বেড়েছে। সীমিত জনবল ও শয্যা নিয়ে অতিরিক্ত রোগীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, অনেক রোগী ওয়ার্ডের মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। নতুন ভবনের বারান্দায়ও অবস্থান করছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনরা। কোথাও জানালার গ্রিলে ঝুলছে স্যালাইনের ব্যাগ। নির্ধারিত শয্যা না পেয়ে বাধ্য হয়ে মেঝেতে থাকতে হচ্ছে অনেক রোগীকে।
উপজেলার মিরাশি ইউনিয়নের বাসিন্দা আবিদ আলী তাঁর অসুস্থ বাবাকে নিয়ে তিন দিন ধরে হাসপাতালে আছেন। তিনি বলেন, ‘তিন দিন আগে বাবারে লইয়া আইছি হাসপাতালে। একটা সিট পাইছি না। উপায় না পাইয়া বাবারে নিচে (মেঝেতে) শোয়াইয়া রাখছি।’
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ভর্তি রোগীদের মধ্যে জ্বর, হাম-উপসর্গ ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। এ ছাড়া আমাশয়সহ পেটের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে রোগীরা হাসপাতালে আসছেন। শিশুদের মধ্যেও জ্বর ও হাম-উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
চিকিৎসকের ৩২ পদে কর্মরত ১২ জন
হাসপাতালটিতে রোগীর চাপ বাড়লেও বাড়েনি শয্যা ও চিকিৎসকের সংখ্যা। চিকিৎসকের ৩২টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১২ জন। তাঁদের মধ্যে দুজন প্রশিক্ষণে এবং একজন ছুটিতে থাকায় বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন নয়জন চিকিৎসক। ফলে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের।
হাসপাতাল সূত্র আরও জানায়, প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৫০০ থেকে ৬০০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। তাঁদের মধ্যে ৩০ থেকে ৪০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এ ছাড়া ২৪ ঘণ্টায় জরুরি বিভাগে আসেন শতাধিক রোগী।
গত সেপ্টেম্বর থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত হাসপাতালের বহির্বিভাগে আট হাজার ২৩৩ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
১০০ শয্যায় উন্নীত করার দাবি
চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, জনবল সংকটের বিষয়টি জানিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। ৩২টি পদের বিপরীতে মাত্র ১২ জন চিকিৎসক দিয়ে চার লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা কঠিন।
তিনি বলেন, দ্রুত চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করা প্রয়োজন। এতে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দেওয়া এবং স্থানীয় মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সহজ হবে।
সন্ধানী বার্তা/ডিএইচ/এমএসআইপি