হলিউডে নিজের সৌন্দর্য ও অভিনয়দক্ষতা দিয়ে আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছেন কিউবান-স্প্যানিশ অভিনেত্রী আনা দে আরমাস। রহস্য, থ্রিলার থেকে শুরু করে জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র—বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের নজর কেড়েছেন তিনি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার পরিচিতি আরও বিস্তৃত হয় ‘নাইভস আউট’ সিনেমায় অভিনয়ের পর। পর্দায় সাবলীল উপস্থিতি ও চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার দক্ষতা তাকে হলিউডের আলোচিত অভিনেত্রীদের একজন করে তুলেছে।
কিউবা থেকে হলিউডের পথে
আনা দে আরমাসের জন্ম ১৯৮৮ সালের ৩০ এপ্রিল কিউবার সান্তা ক্রুজ দেল নর্তে শহরে। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ ছিল তার। সেই আগ্রহ থেকেই অভিনয় নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন এবং অল্প বয়সেই অভিনয়জগতে পা রাখেন।
কিউবার চলচ্চিত্রে কাজের মধ্য দিয়ে অভিনয়জীবন শুরু হলেও পরে স্পেনে পাড়ি জমান আনা। সেখানে টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পান। এরপর হলিউডে নিজের অবস্থান তৈরি করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। নতুন ভাষা ও ভিন্ন সংস্কৃতির পরিবেশে কাজের চ্যালেঞ্জ থাকলেও ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে নিজের জায়গা করে নেন তিনি।
‘নাইভস আউট’ থেকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি
আনা দে আরমাসের ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে ২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া রহস্যধর্মী চলচ্চিত্র ‘নাইভস আউট’-এর মাধ্যমে। এতে মার্তা ক্যাব্রেরা চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসা পান তিনি। এই সিনেমায় অভিনয়ের জন্য গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারে সেরা অভিনেত্রী—মিউজিক্যাল বা কমেডি বিভাগে মনোনয়নও পেয়েছিলেন।
এরপর একের পর এক বড় প্রযোজনার চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ আসে তার সামনে। ‘নো টাইম টু ডাই’ সিনেমায় প্যালোমা চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের নজর কাড়েন। অল্প সময়ের উপস্থিতিতেও তার প্রাণবন্ত অভিনয় চলচ্চিত্রটির উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ হয়ে ওঠে।
মেরিলিন মনরোর চরিত্রে অভিনয়
২০২২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ব্লন্ড’ চলচ্চিত্রে হলিউডের কিংবদন্তি অভিনেত্রী মেরিলিন মনরোর চরিত্রে অভিনয় করেন আনা। চরিত্রটির জন্য তাকে দীর্ঘ প্রস্তুতি নিতে হয়েছিল। মেরিলিনের ব্যক্তিত্ব, কণ্ঠস্বর ও জীবনের নানা দিক পর্দায় তুলে ধরার চেষ্টা করেন তিনি। সিনেমাটি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা হলেও আনার অভিনয় আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়। এ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি অস্কারে সেরা অভিনেত্রী বিভাগে মনোনয়ন পান।
এই অভিজ্ঞতা তার অভিনয়জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করে। একই সঙ্গে প্রমাণিত হয়, শুধু সৌন্দর্যনির্ভর চরিত্র নয়, জটিল ও চ্যালেঞ্জিং ভূমিকাতেও নিজেকে তুলে ধরতে সক্ষম তিনি।
ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আগ্রহ
পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি আনা দে আরমাসের ব্যক্তিগত জীবনও প্রায়ই সংবাদমাধ্যমের আলোচনায় আসে। বিশেষ করে হলিউডের পরিচিত তারকাদের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ রয়েছে। অভিনেতা টম ক্রুজের সঙ্গে তার সম্পর্কের গুঞ্জনও একসময় আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। তবে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সাধারণত প্রকাশ্যে খুব বেশি কথা বলেন না আনা।
তারকাখ্যাতির বাইরে অভিনয়কে গুরুত্ব দেওয়াই আনার ক্যারিয়ারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ভিন্নধর্মী চরিত্রে কাজের আগ্রহ এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রে ধারাবাহিক উপস্থিতি তাকে হলিউডের উল্লেখযোগ্য অভিনেত্রীদের কাতারে জায়গা করে দিয়েছে। সামনে আরও নতুন চরিত্রে তাকে দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন ভক্তরা।
সন্ধানী বার্তা/এএএন/জেএন