নিরাপদ সড়কের জন্য প্রয়োজন সচেতন চালক, আর নিরাপদে গাড়ি চালানোর অন্যতম শর্ত সুস্পষ্ট দৃষ্টিশক্তি। সেই ভাবনা থেকেই চালকদের চোখের যত্ন ও সড়ক নিরাপত্তাকে একসূত্রে যুক্ত করে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে সরকারি ৩৯টি মন্ত্রণালয় ও গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের প্রায় ৩০০ জন চালকের দৃষ্টি পরীক্ষা করা হবে। পরীক্ষায় যাঁদের চশমা প্রয়োজন হবে, তাঁদের দেওয়া হবে বিনামূল্যে চশমা।
চালকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সড়কে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রোববার (১৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের মিনি কনফারেন্স রুমে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এ কর্মসূচি চালকদের দৃষ্টিশক্তির যত্নকে জননিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে।
- জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
- ৩৯ মন্ত্রণালয়ের চালকদের দৃষ্টি পরীক্ষা করবে সড়ক পরিবহন বিভাগ ও ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশ
- গুরুত্ব পাচ্ছে চালকদের সুস্থতা ও নিরাপদ যাত্রা
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক। এ সময় ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিশা মাহজাবিন উপস্থিত ছিলেন।

পাঁচ দিনের কর্মসূচি, সেবার আওতায় ৩০০ চালক
১৮ ও ১৯ অক্টোবর এবং ২৫ থেকে ২৭ অক্টোবর—এই পাঁচ দিন চলবে বিশেষ দৃষ্টি পরীক্ষা কর্মসূচি। এর আওতায় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট ৩৯টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সরকারি কার্যালয়ের চালকদের চোখ পরীক্ষা করা হবে। দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষার ফল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চালকদের বিনামূল্যে চশমা সরবরাহ করা হবে।
কর্মসূচিটির বিশেষ দিক হলো, এখানে শুধু চোখ পরীক্ষা করেই দায়িত্ব শেষ করা হচ্ছে না; প্রয়োজন শনাক্ত হওয়ার পর চালকদের হাতে চশমা তুলে দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ফলে দৃষ্টিশক্তির সমস্যার কারণে যাঁদের গাড়ি চালানোর সময় অসুবিধা হতে পারে, তাঁরা প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এ ধরনের উদ্যোগ চালকদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি তাঁদের ওপর অর্পিত পেশাগত দায়িত্ব আরও নিরাপদভাবে পালনে সহায়ক হতে পারে।
চালকের চোখে স্পষ্টতা, সড়কে নিরাপত্তার সম্ভাবনা
গাড়ি চালানোর সময় একটি ট্রাফিক সংকেত শনাক্ত করা, দূর থেকে পথচারীকে দেখতে পাওয়া কিংবা হঠাৎ সামনে আসা কোনো বাধা বুঝে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া—প্রতিটি ক্ষেত্রেই দৃষ্টিশক্তির ভূমিকা রয়েছে। তাই চালকের চোখের যত্ন কেবল ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যসেবার বিষয় নয়, এটি যাত্রী ও পথচারীর নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।
অনেক সময় দৃষ্টিশক্তির সমস্যা ধীরে ধীরে বাড়ে। ফলে চালক নিজেই বুঝতে পারেন না যে তাঁর দৃষ্টিতে পরিবর্তন এসেছে। নিয়মিত পরীক্ষা এ ধরনের সমস্যা শনাক্ত করতে সাহায্য করে। প্রয়োজন অনুযায়ী চশমা ব্যবহার করলে দৃষ্টিজনিত অসুবিধা মোকাবিলা করাও সহজ হয়। এ কারণে চালকদের জন্য বিশেষ দৃষ্টি পরীক্ষা ও বিনামূল্যে চশমা বিতরণের উদ্যোগকে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সহায়ক একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
এক দিনের সচেতনতা নয়, নিয়মিত যত্নের বার্তা
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসকে কেন্দ্র করে নেওয়া এ কর্মসূচি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে—সড়ক নিরাপত্তার পরিকল্পনায় চালকের স্বাস্থ্যকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে। সড়কের অবকাঠামো উন্নয়ন ও আইন প্রয়োগের পাশাপাশি যাঁরা প্রতিদিন যানবাহন চালান, তাঁদের শারীরিক সক্ষমতা নিশ্চিত করাও সমান প্রয়োজনীয়। এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে আরও বেশি চালককে নিয়মিত দৃষ্টি পরীক্ষার আওতায় আনা সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় চশমার ব্যবহার এবং চোখের যত্ন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
নিরাপদ সড়ক গড়ার পথে ইতিবাচক পদক্ষেপ
সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়; এর সঙ্গে জড়িত চালক, যাত্রী, পথচারী, পরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা। এ ক্ষেত্রে চালকদের দৃষ্টিশক্তির যত্নকে গুরুত্ব দিয়ে সড়ক পরিবহন বিভাগ ও ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগ জননিরাপত্তামুখী কার্যক্রমের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। প্রায় ৩০০ চালককে দৃষ্টি পরীক্ষার আওতায় আনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে চশমা দেওয়ার এই উদ্যোগের মাধ্যমে নিরাপদে গাড়ি চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় একটি মৌলিক শর্তকে সামনে আনা হয়েছে।
নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা ও সচেতনতার সঙ্গে এ ধরনের কর্মসূচি যুক্ত করা গেলে সড়ক নিরাপত্তার প্রচেষ্টা আরও শক্তিশালী হতে পারে। সুস্থ চালক, স্পষ্ট দৃষ্টি ও দায়িত্বশীল চালনা—এই তিনের সমন্বয়েই নিরাপদ যাত্রার ভিত্তি আরও মজবুত হতে পারে। জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের এ উদ্যোগ সেই লক্ষ্য অর্জনে একটি আশাব্যঞ্জক পদক্ষেপ।
সন্ধানী বার্তা/এমএএএমকে