ফুটবল মাঠে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য পরিচিত কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ঘিরে এবার উঠেছে ভিন্ন প্রশ্ন। ফরাসি এই তারকার সাম্প্রতিক কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এমনকি ফুটবলের প্রতি তার আগ্রহ কমে গেছে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন ফরাসি সাংবাদিক দানিয়েল রিওলো। তার মতে, এমবাপ্পের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে, ফুটবল ও এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা প্রত্যাশার চাপ তাকে ক্লান্ত করে তুলছে।
গত কয়েক দিন ধরেই খবরের শিরোনামে রয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড। ফ্রান্স-তুরস্ক ম্যাচে চোট পাওয়ার পর জাতীয় দল ছেড়ে চিকিৎসার জন্য মাদ্রিদে ফেরেন তিনি। এরপর তার ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ এবং সতীর্থদের পাশে না থাকা নিয়ে শুরু হয় আলোচনা। এসব ঘটনা ঘিরে এমবাপ্পের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।
আরএমসি স্পোর্টের সাংবাদিক দানিয়েল রিওলো তো মৌসুম শেষে এমবাপ্পের রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তবে তার সমালোচনার মূল জায়গা শুধু ক্লাব ছাড়ার সম্ভাবনা নয়; বরং এমবাপ্পে এখন ফুটবলকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন, সেটিই তার প্রশ্ন।
এমবাপ্পের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রিওলো বলেন, ‘সাইকেলের ঘটনাটা হিমশৈলের চূড়া মাত্র। আমি ভাবতে শুরু করেছি, এমবাপ্পের কি এখনও ফুটবল খেলার ইচ্ছা আছে? সে আসলে কী চায়? মনে হয়, প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে সে ভাবে, আজ আমি বড় একটা ভুল করব।’
রিওলোর এই মন্তব্যের পেছনে রয়েছে এমবাপ্পের সাম্প্রতিক কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক। রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের ঘনিষ্ঠ মহলের সমালোচনার কথাও উঠে এসেছে আলোচনায়। প্যারিস ও সুইজারল্যান্ডে এমবাপ্পের ভ্রমণ এবং সাইকেল চালানোর একটি ছবি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকেরা।
বিশেষ করে চোটের আশঙ্কায় খেলোয়াড়দের সাইকেল চালানো থেকে বিরত থাকার বিষয়ে কোচের নির্দেশনার প্রসঙ্গ টেনে তার আচরণ নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এসব সমালোচনা থেকেই এমবাপ্পের ফুটবলের প্রতি আগ্রহ হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত হয় না।
ফ্রান্সের ম্যাচ চলাকালে সতীর্থদের পাশে এমবাপ্পের অনুপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রিওলো। তার মতে, জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অন্য তারকারা একত্রিত হলেও এমবাপ্পের অনুপস্থিতি দৃষ্টিকটু মনে হয়েছে।
রিওলো বলেন, ‘সে এভাবে বারবার ভুল করতে পারে না। ফ্রান্সের ম্যাচগুলোতে সতীর্থদের পাশে না থাকায় আমি অবাক হয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি অ্যাওয়ে ম্যাচে এমবাপ্পেকে উপস্থিত থাকতেই হবে, এমন দাবি তিনি করছেন না। তবে সোমবার স্তাদ দ্য ফ্রান্সে ফরাসি ফুটবলের বড় তারকারা একত্রিত হওয়ার সময় তার উপস্থিতি ভিন্ন বার্তা দিতে পারত বলে মনে করেন এই সাংবাদিক।
রিওলোর ভাষায়, ‘আমি বলছি না যে এটা বাধ্যতামূলক। কিন্তু “তোমার মতামতের পরোয়া করি না” এমন বার্তা না দিয়ে সে অন্য কিছু করতে পারত।’
এমবাপ্পের আচরণ নিয়ে সমালোচনা করতে গিয়ে একপর্যায়ে সরাসরি তাকে সতর্ক করেন রিওলো। তার মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর মাধ্যমে এমবাপ্পে নিজের সমালোচকদের আরও বেশি কথা বলার সুযোগ করে দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, ‘যথেষ্ট হয়েছে! তুমি সীমা ছাড়িয়ে গেছ, যথেষ্ট হয়েছে!’
এরপর এমবাপ্পের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের উদাহরণ দিয়ে রিওলো বলেন, ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার পরিবর্তে এমন আচরণ করা ঠিক নয়, যা তার সতীর্থ, সমর্থক কিংবা সমালোচকদের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছে দেয়।
তবে সাংবাদিকের এই বক্তব্য তার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন। এমবাপ্পে নিজে এসব সমালোচনার জবাবে কী বলেছেন, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
এমবাপ্পের সাম্প্রতিক আচরণ দেখে তার মানসিক অবস্থা নিয়েও মন্তব্য করেছেন রিওলো। তিনি মনে করেন, ফরাসি তারকা হয়তো নিজের চারপাশের পরিস্থিতি ও প্রত্যাশার চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
রিওলো বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে সে মানসিকভাবে ভালো নেই।’
এ সময় এমবাপ্পের ব্যক্তিগত জীবন, ব্যালন ডি’অর নিয়ে প্রত্যাশা এবং বন্ধু উসমান ডেম্বেলের সঙ্গে সম্পর্কের প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। তার দাবি, এসব বিষয় এমবাপ্পের আচরণ ও জনপরিসরে তার ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলছে।
তবে এমবাপ্পের মানসিক অবস্থা সম্পর্কে রিওলোর মন্তব্যের পক্ষে কোনো স্বাধীন নিশ্চিত তথ্য এখানে উল্লেখ নেই। ফলে এটিকে সাংবাদিকের ব্যক্তিগত ধারণা হিসেবেই দেখা উচিত।
রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে এমবাপ্পের চুক্তি ২০২৯ সালের গ্রীষ্ম পর্যন্ত। ফলে মৌসুম শেষে তার ক্লাব ছাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা তৈরি হলেও এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
একদিকে চোট, অন্যদিকে মাঠের বাইরের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক—সব মিলিয়ে এমবাপ্পেকে ঘিরে আলোচনা এখন তুঙ্গে। তবে ফুটবলের প্রতি তার আগ্রহ সত্যিই কমে গেছে কি না, কিংবা রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য তার নিজের বক্তব্য ও পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষা করতে হবে।
সন্ধানী বার্তা/এসকে/এমএসআইপি