
দেশে বিদেশি বিনিয়োগ কমছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার মাত্র ৪১ দশমিক ৪১ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্যে দেখা যায়, বিদায়ী অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) ১১৪ কোটি ৪০ লাখ (১.১৪ বিলিয়ন) ডলারের নিট এফডিআই পেয়েছে বাংলাদেশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ১৪৩ কোটি ৪০ লাখ (১.৪৩ বিলিয়ন) ডলার।
এই হিসাবে, জুলাই-এপ্রিল সময়ে দেশে নিট এফডিআই কমেছে ২৯ কোটি ডলার বা ২০ দশমিক ২২ শতাংশ। ‘গণতন্ত্রহীনতা’ নিয়ে সমালোচনার জবাবে উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলত আওয়ামী লীগ। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সেই সরকারের পতনের পর দেশজুড়ে অস্থিরতা, সহিংসতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৭১ কোটি ২০ লাখ (১.৭১ বিলিয়ন) ডলারের নিট বিদেশি বিনিয়োগ পেয়েছিল বাংলাদেশ, যা ছিল আগের অর্থবছরের চেয়ে ২০ দশমিক ১৪ শতাংশ বেশি। তার আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৪২ কোটি ৫০ লাখ (১.৪২ বিলিয়ন) ডলারের নিট বিদেশি বিনিয়োগ এসেছিল বাংলাদেশে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে মোট যে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আসে, তা থেকে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান তাদের মুনাফার অর্থ দেশে নিয়ে যাওয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকে, তাই নিট বিদেশি বিনিয়োগ। দুই দশক পর ক্ষমতায় ফেরা বিএনপির জন্য এবারের বাজেট রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। তবে বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সক্ষমতার যে ঘাটতি, সেটাই বিশ্লেষকদের ভাবাচ্ছে।
বাজেট প্রতি বছরেই আকারে বড় হয়, প্রতিশ্রুতিও বাড়ে, কিন্তু বিনিয়োগ-জিডিপি অনুপাত বাড়ে না। রাজস্ব আহরণের ঘাটতি পূরণ হয় ব্যাংক ঋণ দিয়ে, আর ব্যাংক খাতের ঋণ চাপ বাড়তে থাকে বেসরকারি বিনিয়োগকে সংকুচিত করে। এজন্যই সরকারকে বাজেট বাস্তবায়নের ‘মানে’ জোর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
তিনি বলেন, ‘কর ফাঁকি রোধে কতটুকু প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি কার্যকর হল, ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কতটুকু কমল, বেসরকারি বিনিয়োগ কতটুকু ফিরল—এ তিন সূচকই হবে এই বাজেটের আসল রিপোর্ট কার্ড। সেই পরীক্ষায় সরকার সফল হবে, না ব্যর্থ হবে—সেটার উপরই নির্ভর করছে বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ।’
এম/এএইচ



