
বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে নতুন করে শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ বা স্বৈরাচার যেন পুলিশ সদস্যদের দেশ ও জনগণের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে সক্ষম না হয়। স্বাধীনতার প্রথম প্রহরেই পুলিশের রক্তে রঞ্জিত এই মাটিতে দাঁড়িয়ে আসুন আজ আমরা আবারও নতুন শপথে অঙ্গীকারবদ্ধ হই।’ রবিবার (১০ মে) সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে ‘বাংলাদেশ পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেছেন, এই নির্বাচন প্রমাণ করেছে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষে দক্ষতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন সম্ভব।
পরে ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’ উপলক্ষে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মিলনায়তনে আয়োজিত মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কল্যাণ সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা (পুলিশ সদস্য) কেবল আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর সদস্য নন; আপনারাই হচ্ছেন রাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং ন্যায়বিচার প্রদানের প্রথম দ্বার। সুতরাং, পুলিশ যদি জনগণের কাছে বিশ্বাস এবং নিরাপত্তার প্রতীক হয়ে উঠতে পারে, একজন নাগরিক হিসেবে আমি মনে করি সেখানেই পুলিশের সাফল্য। পুলিশের সাফল্য মানে এটি সরকারেরও সাফল্য।’
চট্টগ্রামে মেজর জিয়ার ‘উই রিভোল্ট’, অপরদিকে ঢাকায় রাজারবাগ পুলিশের মরণপণ প্রতিরোধ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি বছরের পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধনকালে নিজের বক্তব্যের শুরুতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে রাজারবাগে হানাদার বাহিনীর ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর বর্বর হামলায় শহিদ পুলিশ সদস্যদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। শুধু স্মরণের মধ্য দিয়েই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যেসব শহিদ পুলিশ সদস্য আত্মত্যাগ করেছিলেন, যেকোনো মূল্যে সেই স্বাধীনতা রক্ষা করা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, একদিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে চট্টগ্রামে মেজর জিয়ার ‘উই রিভোল্ট’, অপরদিকে ঢাকায় রাজারবাগ পুলিশের মরণপণ প্রতিরোধ। এরপর স্বাধীনতার লড়াই থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের পিছিয়ে থাকার আর কোনো সুযোগ ছিল না।
তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের যুক্তি বা কৌশল সম্পর্কে গবেষণার পরামর্শ
সরকারপ্রধান বলেন, তবে মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রজন্ম থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী প্রজন্ম, আমরা যারা ইতিহাস পড়ে কিংবা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা শুনে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জেনেছি, তাদের মনে মুক্তিযুদ্ধকালীন ইতিহাস নিয়ে এখনও কিছু প্রশ্ন হয়তো রয়েছে। এ সময় তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের উত্তাল মার্চে স্বাধীনতাকামী মানুষের মনে যখন টান টান উত্তেজনা, পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ঢাকায় যখন প্রতিদিন হাজার হাজার সৈন্য জড়ো করা হচ্ছিল, এমন পরিস্থিতিতে সব পুলিশ সদস্যকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে একসঙ্গে জড়ো করে রাখার পেছনে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের কী যুক্তি বা কৌশল কাজ করেছিল, তা যারা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গবেষণা করছেন, তাদের জন্য একটি গবেষণার বিষয় হতে পারে বলে আমি মনে করি।

মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন জনগণের রায়ে গঠিত বর্তমান সরকার
২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার এক রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের পরে দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় গণতান্ত্রিক মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হচ্ছে জনগণের রায়ে গঠিত বর্তমান সরকার। বছরের পর বছর ধরে অসংখ্য হামলা মামলার শিকার, নিপীড়িত, নির্যাতিত, অধিকারহারা মানুষ বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ে শান্তি এবং নিরাপত্তা চায়। তিনি বলেন, দেশের জনগণের শান্তি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আপনাদের কার্যক্রম, অর্থাৎ পুলিশের ভূমিকার ওপরেই সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল। আপনারা জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাধ্য এবং সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করবেন, এটিই আপনাদের কাছে বর্তমান সরকারের প্রত্যাশা।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু দেশেই নয়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমেও বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতা এবং সুনামের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় আমাদের পুলিশ সদস্যরা পেশাদারত্ব, সাহসিকতা ও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। জাতিসংঘ শান্তি মিশনে নারী পুলিশ সদস্যদের ভূমিকাও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। সুতরাং শুধু বিদেশেই নয়, দেশের জনগণের সঙ্গেও পুলিশের মানবিক আচরণ প্রত্যাশিত।

বক্তব্য শেষে প্যারেডে অংশগ্রহণকারী পুলিশ ও র্যাবের সব কর্মকর্তা ও সদস্যকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত চার দিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬-এর উদ্বোধন করেন তিনি। এরপর খোলা জিপে চড়ে বাংলাদেশ পুলিশের প্যারেড পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্যারেডে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসানসহ কূটনীতিক, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মহানগর পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলা পুলিশ সুপাররা উপস্থিত ছিলেন।
কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করাই আপনাদের দায়িত্ব
রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মিলনায়তনে আয়োজিত পুলিশের কল্যাণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করা অবশ্যই আপনাদের দায়িত্ব। তিনি স্পষ্ট ঘোষণা করে বলেছেন, পুলিশ প্রশাসন কোনো দলের নয়। বিধিবদ্ধ আইন অনুযায়ী পুলিশ প্রশাসন পরিচালিত হবে।
তিনি বলেন, আমরা থানাগুলোর পরিবেশ এমনভাবে করতে চাই, যেন একজন মানুষ কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি থানায় গিয়ে নির্ভয়ে তার অভিযোগ জানাতে পারেন। একই সঙ্গে প্রতিকারও পেতে পারেন। তারেক রহমান বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তিগত দক্ষতাসম্পন্ন একটি সুদক্ষ আধুনিক মানবিক পুলিশ বাহিনী ছাড়া জনগণের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন। এই কঠিন কাজটিই বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার শুরু করেছে। সুতরাং, সাধ্য সামর্থের সবটুকু দিয়েই সরকার আপনাদের (পুলিশের) চাওয়া-পাওয়াগুলো অবশ্য ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত অবাধ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনে আপনারা সারাদেশে যথাযথ দায়িত্ব পালন করেছেন। আপনাদের গণতন্ত্রকামী জনগণের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাই। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে, অবশ্যই পুলিশের পক্ষে নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালন সম্ভব। তবে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশের জনগণ ভিন্ন চিত্রও দেখেছে। ‘বাংলাদেশ যেন আর কখনোই ফ্যাসিবাদী শাসন ফিরে না আসে— আসুন এই ২০২৬ এর পুলিশ সপ্তাহে সেটিই হোক আমাদের অঙ্গীকার।’

জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা বজায় রাখা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা বজায় রাখা বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ফ্যাসিবাদী সরকার নিজেদের হীন দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থে পুলিশ বাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল। সেই অন্ধকারের সময় পেরিয়ে এখন সময় এসেছে নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার। জনগণের বিশ্বাস অর্জন এবং সেই বিশ্বাস বজায় রাখাই পুলিশের সামনে বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ। পুলিশের কাজ ‘দুষ্টের দমন আর শিষ্টের লালন’ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক হবে আইনগত এবং মানবিক। জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক হোক আস্থা এবং নির্ভরতার। যে কোনো বিপদে-আপদে জনগণ যেন থানা পুলিশকে তাদের নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল মনে করতে পারে, আপনাদের কাছে আমার এতটুকুই চাওয়া। দেশে বর্তমানে জনগণের ভোটে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই সরকারের কাছে জন প্রত্যাশা যা অন্যান্য বক্তা প্রকাশ করেছেন তাদের বক্তব্যে, সে প্রত্যাশা অনেক বেশি। বর্তমান সরকার যে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার— আপনাদের কার্যক্রমে যেন সেটি প্রতিফলিত হয়, সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব আপনাদের।
বিপদে না পড়লে মানুষ থানায় যায় না
বিপদে না পড়লে মানুষ থানায় যায় না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, থানায় যাওয়ার পর তার বিপদ কমবে, মানুষের মনে এমন ধারণা তৈরি হওয়া অত্যন্ত জরুরি। আপনারা অবশ্যই যে কোনো বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেবেন। তবে সেখানে যদি মানবিকতার ছোঁয়া থাকে তাহলে আপনাদের কারণে সরকারের সাফল্যগুলো জনমনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। জনগণের সহযোগিতা ছাড়া দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কারণেই পুলিশের জন্য জনগণের আস্থা অর্জন অত্যন্ত জরুরি। কমিউনিটি পুলিশিং এবং ওপেন হাউস ডে’র মতো জনমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণকে পুলিশি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকুক। জনগণের সঙ্গে পুলিশের আস্থার সম্পর্ক তৈরি হলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাল্যবিয়ে, নারী ও শিশু নির্যাতন কিংবা চুরি ডাকাতি-দাঙ্গা ফ্যাসাদের মতো সমাজে চলমান প্রথাগত অপরাধমূলক কার্যক্রমগুলোর পাশাপাশি শুধু আমাদের দেশেই নয়, বিশ্ব জুড়েই বেড়ে চলেছে সাইবার ক্রাইম। অপরাধীরা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নতুন নতুন কৌশলে অপরাধ করছে। বিশেষ করে সাইবার বুলিং নারীদের জন্য বর্তমানে অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসবের পাশাপাশি সংঘবদ্ধ অপরাধ, কিশোর গ্যাং, আর্থিক জালিয়াতিসহ নানা ধরনের অপরাধ প্রবণতাও বিরাজমান। সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত এসব অপরাধের শিকার হচ্ছেন। দেশে মাদক এবং অনলাইন জুয়ার ব্যাপারেও জনমনে উদ্বেগ রয়েছে। আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে মাদক সরবরাহকারী এবং মাদকের উৎসমূল টার্গেট করে মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে কার্যক্রম চালানো জরুরি, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকার একটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর
বিশ্ব এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রবেশ করেছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, গ্লোবাল ভিলেজের এই বিশ্ব ব্যবস্থা একদিকে মানুষের মনোজগতে যেমন পরিবর্তন এনেছে, অপরদিকে পাল্টেছে অপরাধের ধরন। সুতরাং বাংলাদেশ পুলিশকে একটি প্রযুক্তিগত দক্ষতাসম্পন্ন আধুনিক, দক্ষ ও যুগোপযোগী বাহিনীতে রূপান্তর করতে অপরাধ বিশ্লেষণ সক্ষমতা জোরদার, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং বৈজ্ঞানিক তদন্ত পদ্ধতির বিস্তৃত প্রয়োগ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। তিনি আরও বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রেক্ষাপটে উদ্ভূত বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাইবার পুলিশ প্রতিষ্ঠা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বিগ ডাটা বিশ্লেষণসহ বিকাশমান প্রযুক্তির সমন্বিত ও কার্যকর ব্যবহার আরও সম্প্রসারণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ লক্ষেই সরকার একটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধ পরিকর।
‘এ লক্ষ্যে সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক জালিয়াতি প্রতিরোধ, সন্ত্রাসবাদ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, ডিজিটাল ও ফরেনসিক সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করাসহ এসব বিষয়গুলোকে আরও কার্যকর করতে সরকার পর্যায়ক্রমিকভাবে পদক্ষেপ নিয়েছে।’ তারেক রহমান আরও বলেন, সরকার দেশে মানবাধিকার সমুন্নত রেখে আইনের শাসন সুনিশ্চিত করতে চায়। গুম অপহরণ কিংবা বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা করা প্রতিটি পুলিশের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। বাংলাদেশ পুলিশের প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা, পেশাদারত্ব ও জনআস্থা আরও সুদৃঢ় করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বদলি, পদোন্নতি কিংবা পুলিশে নিয়োগ এসব ক্ষেত্রে মেধা যোগ্যতা, দক্ষতা এবং সততাকেই আমরা প্রাধান্য দিতে চাই।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া সারা দেশ থেকে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন পুলিশের সংশ্লিষ্ট সদস্যরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা নিজেদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন।
সন্ধানী বার্তা/এমএএএমকে



