বুধবার , ১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

প্রধান প্রতিবেদন

‘গুজব’ ছড়ানোর হাতিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে দীর্ঘদিন ধরে ‘গুজব’ ছড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত ফায়দা হাসিলে কারও বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো, মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সম্মানহানি করা যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে অনেক সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, গোষ্ঠীতে কিংবা এলাকাভিত্তিক দাঙ্গা বেধে যায়। ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়। মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে।

প্রতিনিয়তই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ গুজবের শিকার হচ্ছেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেশে এবং দেশের বাইরে বসে একটি চক্র এটা করছে। এছাড়া কিছু সংবাদমাধ্যমে তথ্য যাচাই না করে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ পাচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের আদলে কার্ড বানিয়ে ভুয়া তথ্যও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

কয়েকদিন আগে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউনেস্কোর প্রতিনিধি সুসান ভাইজের সঙ্গে সাক্ষাতে তথ্যমন্ত্রী ইউনেস্কোর কারিগরি সহযোগিতা নিয়ে অপতথ্য, ভুল তথ্যের নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি কার্যকর ‘রোডম্যাপ’ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ২৭ এপ্রিল সকালে সচিবালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘অপতথ্য ও ভুল তথ্য সরকারের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এটি এখন যুদ্ধে পরিণত হয়েছে।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনস্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও নানা গুজব ছাড়ানোর ঘটনা নতুন কিছু নয়। টিকা রোগ প্রতিরোধে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি নিয়েও গুজব ছড়ানো হয়। গুজবের কারণে ঝুঁকিতে পড়ছে জনস্বাস্থ্য। গুজবের শিকার হয়ে অনেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন। ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপরও। ইসলামে গুজব একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি বলা হলেও ইসলামি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের কেউ কেউ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে গুজবে লিপ্ত হচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

মনোশিক্ষাবিদ অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল বলেন, গুজব ছড়ানো এক ধরনের অপরাধ। যারা গুজব ছড়ান তারা অপরাধ করেন। সব ধর্মেও এ বিষয়ে নিষেধ আছে। যারা গুজব ছড়ায় তারা যে শুধু ‘অ্যান্টিসোস্যাল পারসোনালিটি ডিজঅর্ডার’-এর রোগী শুধু তাই নয়। তবে ‘অ্যান্টিসোশ্যাল পারসোনালিটি ডিজঅর্ডার’ রোগীদের মধ্যে গুজব ছড়ানোর প্রবণতা বেশি থাকে। তাদের মধ্যে যে রকম নির্মমতা নিষ্ঠুরতা বেশি থাকে তেমনি গুজব ছড়ানোর প্রবণতাও বেশি থাকে। গুজব সরিয়ে তারা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করতে চায়।

এম/এএইচ


সম্পর্কিত খবর