এক্সক্লুসিভ

তারেক রহমানের রাজনৈতিক সৌজন্যতায় মুগ্ধ জামায়াত-এনসিপি

দেশের রাজনীতিতে নতুন সংস্কৃতির সূচনা করলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে থাকলেও তিনি পরাজিত দুই রাজনৈতিক দলের দু’প্রধান নেতা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় গিয়ে পৃথকভাবে তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তারেক রহমানের সৌজন্যতায় তারা মুগ্ধ হয়েছেন। ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অগ্রিম ফুলেল শুভেচ্ছায় অভিনন্দন জানিয়েছেন।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে তার বাসায় যান তারেক রহমান। এরপর তিনি নাহিদের বাসায় গিয়ে সাক্ষাৎ করেন। রাজনীতির এই দৃষ্টান্ত জনমনে কুড়িয়েছে প্রশংসা।

অগ্রিম অভিনন্দন জানালেন জামায়াত আমির
তারেক রহমানকে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অগ্রিম অভিনন্দন জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতকে জাতীয় রাজনীতির জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে তার বাসায় যান তারেক রহমান। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে এ কথা বলেন শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অগ্রিম অভিনন্দন জানাচ্ছি। তিনি আজ আমার আবাসিক কার্যালয়ে এসেছিলেন। তার এই আগমন আমাদের জাতীয় রাজনীতির জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমি তার এই আগমনকে স্বাগত জানাই এবং প্রত্যাশা রাখি, সংলাপ ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে এটি রাজনৈতিক পরিপক্কতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক নতুন অধ্যায় সূচনা করবে।

তিনি আরও বলেন, আমি এমন এক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি যা হবে ফ্যাসিবাদমুক্ত, সার্বভৌম এবং ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১১-দলীয় জোটের সাথে মিলে একটি সমৃদ্ধ, স্থিতিশীল ও আধুনিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সাংবিধানিক শাসনের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে।

তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের আলোচনায় তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা এবং বিরোধী দলের কর্মী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যেকোনো হামলা রোধে তিনি কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন। আমি এই আশ্বাসকে সাধুবাদ জানাই। আমাদের প্রত্যাশা, কোনো নাগরিকই যেন ভয়ভীতি বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হয়।

জামায়াত আমির বলেন, জাতীয় স্বার্থের বিষয়ে আমরা নির্বাচিত সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করব, তবে একটি আদর্শিক বিরোধী দল হিসেবে আমাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে আমরা আপসহীন থাকব। সরকারের জনকল্যাণমূলক কাজে আমাদের সমর্থন থাকবে, কিন্তু যেখানেই জবাবদিহিতার প্রয়োজন হবে, সেখানে আমরা সোচ্চার থাকবো। আমাদের উদ্দেশ্য সংঘাত নয় বরং সংশোধন; বাধা দেওয়া নয় বরং পর্যবেক্ষণ। দেশের মানুষ এমন একটি সংসদ প্রত্যাশা করে, যা ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকার রক্ষা করবে এবং স্থিতিশীলতার সাথে রাষ্ট্রকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

রাজনৈতিক সৌজন্যতাকে সাধুবাদ এনসিপির
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে রাত ৮টায় বসুন্ধরা থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বেইলি রোডের বাসার উদ্দেশে রওয়ানা হন তারেক রহমান। নাহিদ ইসলামের বাসায় এসে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাক্ষাতের বিষয়টিকে জাতীয় রাজনীতির জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সাক্ষাতের বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের জানাতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এমন তথ্য জানান দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন। এনসিপির হয়ে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আখতার বলেন, আজ দুই দলের নেতা তারেক রহমান এবং নাহিদ ইসলাম একত্রে বসেছেন। যদিও কয়েকটি আসনের নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে এনসিপির প্রশ্ন রয়েছে। এরপরও তারেক রহমান যে রাজনৈতিক সৌজন্যতাবোধের জায়গা থেকে সাক্ষাতে এসেছিলেন, এই রাজনৈতিক সৌজন্যতাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। তার জয়ী হয়ে আসাকে আমরা অভিনন্দন জানাই।

তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান এবং নাহিদ ইসলামের মধ্যকার আজকের এই নির্বাচন পরবর্তী সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটা পরিবর্তনের আভাস দেয়।

রাজনৈতিক মতভিন্নতা থাকলেও দেশের প্রশ্নে এক হয়ে কাজ করার বিষয়ে তিনি বলেন, নিজেদের মধ্যে মতভিন্নতা সত্ত্বেও কীভাবে এর বাইরে গিয়ে একত্রে দেশের জন্য কাজ করতে পারি, সে সব বিষয় নিয়ে আমরা কথা বলেছি। বাংলাদেশের সংস্কারের যে প্রশ্ন, সেই প্রশ্নকে কীভাবে সুরাহা করা যায় এবং বিচারের যে প্রশ্ন সেই বিষয়গুলো নিয়ে আমরা নিজেদের মধ্যে কথা বলেছি।

এনসিপির সদস্য সচিব বলেন, আমরা মনে প্রাণে চাই এই বাংলাদেশ রাষ্ট্রে আমাদের রাজনৈতিক মতভিন্নতা থাকবে। রাজনৈতিক কর্মসূচি আলাদা হবে। রাজনৈতিক বক্তব্য আলাদা হবে। কিন্তু দেশের প্রশ্নে বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দল আমরা একত্রিত থেকে বাংলাদেশের প্রশ্নে সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করতে পারব। সে ধরনের একটা পরিবেশ বাংলাদেশে অটুট থাকবে। সেটাই আমাদের প্রত্যাশার জায়গা।

আখতার বলেন, সাক্ষাতে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা বন্ধে বিএনপির পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থাগ্রহণের আশ্বাস দেয়া হয়েছে। এছাড়া ২৪ এর অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়েও কথা হয়েছে। পরে তারেক রহমানকে শাপলা কলির কাঠামো উপহার দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

কালের আলো/জেএন/এমকে


সম্পর্কিত খবর