জাতীয়

দক্ষতার যুদ্ধে তরুণরা, নেতৃত্বে প্রস্তুতির ডাক এলজিআরডি মন্ত্রীর

যে প্রজন্মের হাতে ভবিষ্যৎ, তাদের অপেক্ষায় বসে থাকার সুযোগ নেই। দেশের আগামী দিনের রূপরেখা কেবল নীতিনির্ধারকদের টেবিলে আঁকা হবে না; তার বড় অংশ নির্ধারিত হবে তরুণদের দক্ষতা, নেতৃত্ব ও দায়িত্ববোধে। সেই বাস্তবতার কথাই মনে করিয়ে দিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান তরুণদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন—একটি ভিন্ন ধরনের যুদ্ধে নামার জন্য। তার ভাষায়, ‘এখন যৌবন যার, যুদ্ধে যাওয়ার সময় তার।’

  • সনদ অর্জনকে শেষ নয়, নতুন দায়িত্বের শুরু হিসেবে দেখার আহ্বান
  • ব্যক্তিগত সাফল্যের বাইরে মানুষের জন্য কাজ করার তাগিদ

তবে এই যুদ্ধ অস্ত্রের নয়; উন্নত বাংলাদেশ নির্মাণের। দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ তৈরি করাই তরুণদের সামনে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টারের ‘গ্র্যাজুয়েশন সিরিমনি-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

যুদ্ধের অস্ত্র যখন জ্ঞান
ড.মঈন খানের বক্তব্যে ‘যুদ্ধ’ শব্দটি এসেছে একটি রূপক অর্থে—যে লড়াইয়ের ময়দান অর্থনীতি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, নেতৃত্ব ও জনকল্যাণ; আর যার অস্ত্র জ্ঞান ও দক্ষতা। তরুণদের সেই লড়াইয়ের উপযোগী করে গড়ে তোলার ওপরই জোর দিয়েছেন তিনি। দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে কেবল কর্মসংস্থানের পরিসংখ্যানে আটকে না রেখে জাতীয় সম্পদে পরিণত করার প্রয়োজনীয়তাও তার বক্তব্যে স্পষ্ট। দক্ষতা অর্জন, নেতৃত্বের সক্ষমতা তৈরি এবং দায়িত্ব নেওয়ার মানসিকতা—এই তিনটিকেই তিনি ভবিষ্যৎ নির্মাণের ভিত্তি হিসেবে সামনে এনেছেন।

সনদ নয়, শুরু হচ্ছে আসল যাত্রা
গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে সনদ হাতে নেওয়া তরুণদের জন্য মন্ত্রীর বার্তাও ছিল প্রচলিত অভিনন্দনের বাইরে। তার মতে, প্রশিক্ষণ শেষ হওয়া মানে কোনো পথের সমাপ্তি নয়; এটি বাস্তব জীবনের কঠিন পরীক্ষায় প্রবেশ। ক্লাসরুমে শেখা নেতৃত্ব তখনই অর্থবহ হবে, যখন তা মানুষের প্রয়োজনে কাজে লাগবে। ব্যক্তিগত সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠার পাশাপাশি সমাজের জন্য কিছু করার দায়ও তরুণদের নিতে হবে—মন্ত্রীর বক্তব্যে এমন প্রত্যাশাই উঠে এসেছে।

অতীতের তরুণ, আগামীর নির্মাতা
বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর সঙ্গে তরুণদের অবদানের সম্পর্কও তুলে ধরেন মন্ত্রী। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন পর্যায়ে তরুণদের অংশগ্রহণের কথা স্মরণ করে তিনি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নির্মাণেও একই উদ্যম প্রত্যাশা করেন। তবে সময় বদলেছে, বদলেছে চ্যালেঞ্জের ধরনও। ফলে অতীতের লড়াইয়ের অভিজ্ঞতাকে ভবিষ্যতের নতুন বাস্তবতায় রূপান্তর করাই এখন তরুণদের বড় পরীক্ষা। আত্মত্যাগের ইতিহাসকে দক্ষতা ও দায়িত্ববোধের শক্তিতে পরিণত করার আহ্বান তাই তার বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

নেতৃত্বের পাঠ এবার বাস্তবের মাঠে
বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টারের প্রশিক্ষণ ও নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মসূচিকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে উল্লেখ করেন ড.মঈন খান। তার বক্তব্যে স্পষ্ট—দ্রুত বদলে যাওয়া পৃথিবীতে শুধু ডিগ্রি দিয়ে পথ চলা কঠিন; প্রয়োজন সমস্যা বোঝার ক্ষমতা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস এবং মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার নেতৃত্ব। গ্র্যাজুয়েটদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী দেশের জন্য, মানুষের জন্য এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টারের কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

এমএএএমকে


সম্পর্কিত খবর