ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির জয়ের বড় কারণ ফ্যামিলি কার্ড ও হেলথ কার্ডের মতো অর্থনৈতিক ক্যাম্পেইন। অন্যদিকে জামায়াতের আদর্শিক ক্যাম্পেইন ভোটারদের বিশেষ করে নারী ভোটারদের ওপর তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি বলে ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের জরিপে উঠে এসেছে।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে বিডিবিএল ভবনে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানায় সংস্থাটি।
এসময় ভবিষ্যত রাজনৈতিক দলগুলোকে নারী এবং তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে জোর দিতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তারা।
এদিকে কোন দল কত শতাংশ ভোট পেয়েছে তা জানাতে দেরি করায় নির্বাচন কমিশননের সমালোচনা করে ভয়েস ফর রিফর্ম মনে করে এটা কমিশনের অদক্ষতা।
সুচারু জরিপের মাধ্যমে জনগণের আকাঙ্খাকে রাজনৈতিক দলের কাছে পৌঁছে দেয়া সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন অনুষ্ঠানের আসা আলোচকরা।
এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রুবাইয়াত সারওয়ার ও ভয়েস ফর রিফর্মের সৈয়দ হাসিব উদ্দিন হোসেন।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ইসির জনসংযোগ শাখা জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ৪৯ দশমিক ৯৭, জামায়াত ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে। বিএনপি জোট ২১২ আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। আর ১১ দলীয় জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন।
১৭ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত ব্যক্তিদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। বিকেলে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ হবে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়। সংবিধান অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭ আসনের ফলাফলে দেখা গেছে, বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। জোটের শরিকদের আরও ৩টি আসন মিলিয়ে বিএনপি জোটের বর্তমান আসনসংখ্যা ২১২। দীর্ঘ দেড় দশক পর এমন ‘ভূমিধস’ বিজয় দলটির কর্মী-সমর্থকদের মাঝে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।
তারেক রহমানের এ ঐতিহাসিক বিজয়ে তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এক অভিনন্দন বার্তায় তিনি বলেন, ‘আপনার নেতৃত্বে বিএনপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় আপনাকে আন্তরিক মোবারকবাদ। গণতান্ত্রিক উত্তরণের এই ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় জনগণের এই স্পষ্ট রায় দেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।’
সন্ধানী বার্তা/জেএন