দেশের সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যরা এবার দায়িত্ব পালন করবেন কাতারের উপকূল ও সমুদ্রসীমার নিরাপত্তায়। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২৪ সদস্যের একটি দল তিন বছরের জন্য দায়িত্ব পালনে কাতারের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছে। আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের নৌদক্ষতা ও পেশাদারিত্বের ব্যবহার এবং দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় উদ্যোগ।
- ২০১২ সাল থেকে চলমান সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় নতুন নিয়োগ
- তিন বছর দায়িত্ব পালনে সামুদ্রিক টহল, অনুসন্ধান-উদ্ধার ও চোরাচালান প্রতিরোধে কাজ করবেন তাঁরা
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ভোররাতে তাঁরা ঢাকা ত্যাগ করেন। কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন কাতার কোস্ট অ্যান্ড বর্ডার সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টে (কিউসিবিএসডি) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অধীনে নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করবেন তাঁরা। যাত্রার আগে সহকারী নৌবাহিনী প্রধান (অপারেশন্স) রিয়ার এডমিরাল গোলাম সাদেক তাঁদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠা বজায় রাখার বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
দীর্ঘদিনের আস্থার ধারাবাহিকতা
কাতারে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নতুন নয়। ২০১২ সাল থেকে নিয়মিতভাবে কাতার কোস্ট অ্যান্ড বর্ডার সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টে সদস্য পাঠিয়ে আসছে বাংলাদেশ। দায়িত্ব পালনকালে তাঁদের দক্ষতা, কর্মনিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে কাতারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আস্থা ও প্রশংসা অর্জনের বিষয়টি এই সহযোগিতাকে ধারাবাহিকতা দিয়েছে। নতুন ২৪ সদস্যের নিয়োগও সেই দীর্ঘদিনের সহযোগিতার অংশ। অর্থাৎ, এটি কেবল একটি নতুন দলের বিদেশযাত্রা নয়; বরং দুই দেশের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত নিরাপত্তা সহযোগিতার চলমান প্রক্রিয়ার আরেকটি ধাপ।
কাতারের সামুদ্রিক নিরাপত্তায় যেসব দায়িত্ব
কাতারে নিয়োজিত বাংলাদেশি নৌসদস্যরা উপকূলীয় ও সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সামুদ্রিক টহল, অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম এবং চোরাচালান প্রতিরোধসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক নিরাপত্তামূলক দায়িত্ব পালন করবেন। এসব দায়িত্ব উপকূলীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে সামুদ্রিক টহল, অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশিক্ষিত জনবলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নৌসদস্যদের অভিজ্ঞতা কাতারের নিরাপত্তা কার্যক্রমে সহায়ক হবে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক পরিবেশে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে এসব সদস্যের পেশাগত অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতা আরও সমৃদ্ধ হওয়ার সুযোগ রয়েছে। ভিন্ন দেশের নিরাপত্তা কাঠামোর অধীনে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁদের পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতার পরিধি বাড়াবে।
নিরাপত্তা সহযোগিতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক গুরুত্ব
কাতারে বাংলাদেশি নৌসদস্যদের নিয়োগের তাৎপর্য দুই দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা, পেশাগত জ্ঞান বিনিময় এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশে তাঁদের দায়িত্ব পালন দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহেও অবদান রাখবে। প্রচলিত শ্রমবাজারের বাইরে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জনবলের আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের পেশাগত সক্ষমতারও পরিচয় বহন করে।
বাংলাদেশ নৌবাহিনী দেশের সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শান্তি, সহযোগিতা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখে চলেছে। কাতারে নতুন ২৪ সদস্যের দায়িত্ব গ্রহণ সেই আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততারই ধারাবাহিকতা। তাঁদের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে একদিকে কাতারের সামুদ্রিক নিরাপত্তা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দক্ষ জনবল যুক্ত হবে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।
সন্ধানী বার্তা/এমএএএমকে