জাতীয়

কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী

কৃষিকে টিকিয়ে রাখা, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ‘বাঁচলে কৃষক, বাঁচবে দেশ’ নীতিতে বিশ্বাসী হয়ে কৃষিকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, লাভজনক ও জলবায়ু সহিষ্ণু খাতে রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী ‘১৪তম আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রযুক্তি ও সনাতন জ্ঞানের সমন্বয়ে বাড়বে উৎপাদন
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একবিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে সনাতন কৃষি জ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় কেবল উৎপাদনশীলতাই বাড়াবে না, বরং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি এ সমন্বয় তরুণ প্রজন্মকে নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে কৃষিতে আকৃষ্ট করবে। কৃষিকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই উন্নয়নে কৃষি ও কৃষকের অবদান অপরিসীম। এ কারণে কৃষিকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, লাভজনক ও জলবায়ু সহিষ্ণু খাতে রূপান্তর করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

কৃষকের দোরগোড়ায় প্রযুক্তি পৌঁছানোর উদ্যোগ
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে কৃষকের দোরগোড়ায় আধুনিক প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়া, উৎপাদন ব্যয় কমানো, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প ও উদ্যোক্তা বিকাশের কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন দর্শনের কেন্দ্রে জনগণ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত অঙ্গীকার অনুযায়ী কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষি উপকরণ সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ, কৃষি বিমা এবং কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও বিপণন সুবিধা সম্প্রসারণে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি, কারিগরি দক্ষতা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

কৃষি প্রযুক্তি মেলা চলবে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত
রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এ মেলা চলবে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। পল্লি উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ), বগুড়া এবং লিমরা ট্রেড ফেয়ারস অ্যান্ড এক্সিবিশন্স প্রাইভেট লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে মেলার আয়োজন করা হয়েছে। তারেক রহমান বলেন, কৃষি গবেষক, প্রযুক্তি উদ্ভাবক, বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা ও কৃষকদের মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপনের পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশেও এ আয়োজন ইতিবাচক অবদান রাখবে। আধুনিক কৃষিযন্ত্র, উন্নত বীজ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, শস্য সংরক্ষণ, দুগ্ধ ও পোলট্রি উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ কৃষির বিভিন্ন ক্ষেত্রে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি প্রদর্শন ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে মেলাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কৃষকের ন্যায্য প্রতিদান নিশ্চিতের লক্ষ্য
সরকারের লক্ষ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন একটি কৃষিব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যেখানে কৃষক তাঁর শ্রমের ন্যায্য প্রতিদান পাবেন, উৎপাদন হবে অধিকতর লাভজনক এবং গ্রামীণ অর্থনীতি হবে সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর। কৃষক ও কৃষির সমৃদ্ধির মধ্য দিয়েই সরকার একটি স্বনির্ভর, উৎপাদনশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় বলে বাণীতে উল্লেখ করেন তিনি। পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী মেলার সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন।

সন্ধানী বার্তা/এএইচ/এমএসআইপি


সম্পর্কিত খবর