লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো—ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা দুই মহাতারকা। দীর্ঘ সময় ধরে ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে আধিপত্য বিস্তার করেছেন তাঁরা। দুজন মিলে জিতেছেন ১৩টি ব্যালন ডি’অর। বর্তমানে এই পুরস্কারের লড়াইয়ে তাঁদের দেখা না গেলেও কে সেরা, সেই বিতর্ক থামেনি। এবার ব্যালন ডি’অরের আয়োজকদের একটি বিশেষ ভোটাভুটিতে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে দুই কিংবদন্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা। সেখানে এখন পর্যন্ত রোনালদোর ২০০৮ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ের মৌসুম বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে মেসির সেরা মৌসুমগুলোর চেয়ে।
সর্বকালের সেরা মৌসুম বেছে নিতে ভোট
ব্যালন ডি’অরের অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মে শুরু হয়েছে বিশেষ এই ভোটাভুটি। তবে এবার সরাসরি সর্বকালের সেরা ফুটবলার নির্বাচনের আয়োজন করা হয়নি। বরং অন্তত দুবার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন, এমন ১০ কিংবদন্তির পুরস্কারজয়ী মৌসুমগুলোর মধ্যে সেরা মৌসুমটি বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন ফুটবলপ্রেমীরা।
অক্টোবরের শুরুতে শুরু হওয়া এই ভোট চলবে ২৭ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত। ভোটাভুটিতে বিজয়ী হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট ফুটবলারের নাম ঘোষণা করা হবে না। নির্বাচিত হবে তাঁদের ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুমগুলোর মধ্যে সেরা পারফরম্যান্সের মৌসুম।
মেসি ও রোনালদো ছাড়াও তালিকায় রয়েছেন রোনালদো নাজারিও, মার্কো ফন বাস্তেন, মিশেল প্লাতিনি, কার্ল হেইঞ্জ রুমেনিগে, কেভিন কিগান, ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, ইয়োহান ক্রুইফ ও আলফ্রেদো দি স্তেফানো। ফুটবল ইতিহাসে নিজেদের অসামান্য কীর্তির কারণে এই কিংবদন্তিরা ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন।
ভোটে ৬২ শতাংশ নিয়ে এগিয়ে রোনালদোর ২০০৮
এখন পর্যন্ত ভোটের হিসাবে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ২০০৮ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুম। এই মৌসুমের পক্ষে পড়েছে ৬২ শতাংশ ভোট। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে সেবার প্রথমবারের মতো ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন পর্তুগিজ তারকা। পরবর্তী সময়ে আরও চারবার এই পুরস্কার জিতে নিজের সংগ্রহকে পাঁচে নিয়ে যান তিনি।
অন্যদিকে লিওনেল মেসির ২০১২ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুম পেয়েছে ১৩ শতাংশ ভোট। ওই বছর ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে অবিশ্বাস্য উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এক পঞ্জিকাবর্ষে মাত্র ৬৯ ম্যাচ খেলে করেছিলেন ৯১ গোল। সেই অসাধারণ কীর্তির স্বীকৃতি হিসেবে টানা চতুর্থবারের মতো ব্যালন ডি’অর জিতে রেকর্ড গড়েন তিনি। তবে ভোটের বর্তমান চিত্রে মেসির সেই ঐতিহাসিক মৌসুমও রোনালদোর ২০০৮ সালের পারফরম্যান্সের চেয়ে অনেক পিছিয়ে রয়েছে।
বিশ্বকাপজয়ী মেসির ২০২৩ সালের মৌসুমও পিছিয়ে
মেসির ২০২৩ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুম ভোট পেয়েছে ৯ শতাংশ। ওই বছর কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। বিশ্বকাপজয়ের পর ব্যক্তিগত অর্জনের তালিকায় যোগ হয় আরও একটি ব্যালন ডি’অর।
প্যারিস সেন্ট জার্মেইর হয়ে ওই মৌসুমে ৪১ ম্যাচ খেলে ২১ গোল করার পাশাপাশি ২০টি অ্যাসিস্ট করেছিলেন মেসি। তাঁর পারফরম্যান্সে দলটি লিগ ওয়ানের শিরোপা জেতে এবং ফরাসি সুপার কাপও জয় করে। জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ জয় এবং ক্লাবের হয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে মৌসুমটি ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়। তারপরও ভোটাভুটিতে এখন পর্যন্ত রোনালদোর ২০০৮ সালের মৌসুমের তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে মেসির এই অর্জন।
রোনালদোর ২০০৭ ও ২০১৬ সালের মৌসুমও তালিকায়
ভোটের তালিকায় রোনালদোর ২০০৭ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুম রয়েছে চতুর্থ স্থানে। এই মৌসুমের পক্ষে পড়েছে ৭ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে ২০১৬ সালে তাঁর ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুম পেয়েছে ২ শতাংশ ভোট।
২০১৬ সালে রোনালদো ক্লাব ও জাতীয় দল—দুই পর্যায়েই উল্লেখযোগ্য সাফল্য পান। পর্তুগালের হয়ে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পাশাপাশি রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতেন তিনি। ফলে তাঁর ওই মৌসুমও ফুটবল ইতিহাসের স্মরণীয় অর্জনগুলোর মধ্যে অন্যতম।
ভোট দিতে খরচ হবে এক ইউরো
এই ভোটাভুটির আরেকটি আলোচিত দিক হলো, এতে অংশ নিতে প্রত্যেক ভোটারকে এক ইউরো খরচ করতে হবে। ভোটাররা চাইলে একই ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুমে একাধিকবার ভোট দিতে পারবেন। পাশাপাশি প্রতিটি মৌসুম কত শতাংশ ভোট পেয়েছে, তা-ও দেখতে পারবেন তাঁরা।
আয়োজকদের উদ্যোগে লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত একজন ভোটারকে চলতি বছরের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানের দুটি টিকিট দেওয়া হবে। এ ছাড়া ট্রফির একটি আইকনিক ছবি ডাউনলোড করার সুযোগও থাকছে।
ভোটের ফল এখন পর্যন্ত রোনালদোর পক্ষে বড় ব্যবধান দেখালেও ২৭ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে শেষ পর্যন্ত ব্যবধান কতটা বদলায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। মেসি-রোনালদোর দীর্ঘদিনের শ্রেষ্ঠত্বের বিতর্কে এই ভোটাভুটি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সন্ধানী বার্তা/জেএন/এসএ