আন্তর্জাতিক

জেলেনস্কি ‘সীমা ছাড়িয়েছেন’, বিস্ফোরক মন্তব্য ইলন মাস্কের

রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনা ও তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলা নিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির কঠোর সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি ‘সীমা ছাড়িয়ে গেছেন’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রোববার (১১ অক্টোবর) মাস্কের এই মন্তব্য সামনে আসে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলার সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, এসব হামলা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ সৃষ্টি করছে এবং ডিজেলের সংকট আরও বাড়িয়ে তুলছে।

জ্বালানি সংকট নিয়ে ট্রাম্পের অভিযোগ

শনিবার হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলার প্রভাব বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের ওপর পড়ছে। বিশেষ করে ডিজেলের ঘাটতি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক ও খামারিদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে বলে দাবি করেন তিনি।

ট্রাম্পের অভিযোগ, রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে ওয়াশিংটন একাধিকবার কিয়েভকে সতর্ক করলেও ইউক্রেন সেই আহ্বানে সাড়া দেয়নি। যুদ্ধ বন্ধের সুযোগও জেলেনস্কি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। এমনকি ইউক্রেনে নতুন করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় এসেছে বলেও মত দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

কিয়েভকে ছয়বার সতর্ক করার দাবি

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা থেকে বিরত থাকতে ইউক্রেনকে অন্তত ছয়বার অনুরোধ করেছিল ওয়াশিংটন। তবে এসব অনুরোধের পরও হামলা অব্যাহত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপের পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের চাপ কমাতে রুশ ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার বিষয়টি আলোচনায় আসে। ওয়াশিংটনের এই অবস্থানের সমালোচনা করেছে কিয়েভ। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়েছে।

স্টারলিংক নিয়েও বাড়ছে দূরত্ব

মাস্ক ও জেলেনস্কির মধ্যে মতবিরোধের বিষয়টি নতুন নয়। ইউক্রেনের যুদ্ধে মাস্কের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবস্থা স্টারলিংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে যোগাযোগ, সেনা ইউনিটগুলোর সমন্বয় এবং বিভিন্ন সামরিক কার্যক্রমে এই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে।

তবে রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে স্টারলিংক ব্যবহারের বিষয়ে অতীতে আপত্তি জানিয়েছেন মাস্ক। ২০২২ সালে ক্রিমিয়ার কাছে রুশ নৌবহর লক্ষ্য করে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার সময় সংশ্লিষ্ট এলাকায় স্টারলিংক পরিষেবা সম্প্রসারণে তিনি সম্মতি দেননি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মাস্কের যুক্তি ছিল, এ ধরনের পদক্ষেপে স্পেসএক্স সরাসরি বৃহত্তর সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

যুদ্ধের কৌশল নিয়ে নতুন প্রশ্ন

রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলা, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ এবং স্টারলিংক ব্যবহারের প্রশ্ন—সব মিলিয়ে ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মধ্যে কৌশলগত মতপার্থক্য আরও সামনে এসেছে।

ইউক্রেনের জন্য স্টারলিংকের গুরুত্ব বিবেচনায় মাস্কের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি দেশটির সামরিক যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। তবে মাস্কের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর স্টারলিংক পরিষেবা বন্ধ বা সীমিত করার কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

সূত্র: আরটি, অ্যাক্সিওস ও দ্য আটলান্টিক।

সন্ধানী বার্তা/জেএন


সম্পর্কিত খবর